উইল স্মিথকে ১৫ দিনের সময় দিল একাডেমিনিজের কাজের ফলভোগ করতে হচ্ছে উইল স্মিথকে। একাডেমির কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙার জন্য তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে একাডেমি। স্মিথকে তার কাজের লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। একাডেমির পরবর্তী বোর্ড মিটিং ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। স্মিথের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে তা সেদিনই নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্তে আসার আগে উইল স্মিথের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেছে অস্কার কমিটি। তার সঙ্গে কথা বলেছেন কমিটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড রুবিন ও সিইও ডন হাডসন।
একটি জুম মিটিংয়ে উইল স্মিথের সঙ্গে অস্কার কমিটির প্রধানদের এ বৈঠক হয়। ৩০ মিনিটের এ ‘সংক্ষিপ্ত’
বৈঠকে রোববারের ঘটনা নিয়েই মূলত কথা হয়েছে। রুবিন ও হাডসনের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন উইল স্মিথ। প্রাথমিকভাবে কমিটি জানিয়েছিল স্মিথকে বহিষ্কার বা তার অস্কার প্রত্যাহার করা হতে পারে। পরে স্মিথের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার কমিটির বোর্ড মিটিং শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত জানায়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাচ্ছেন স্মিথ। তবে আরো কঠোর পরিস্থিতির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
অস্কারের আসরেই গ্রেফতার হতে পারতেন উইল স্মিথ। অস্কারের প্রযোজক উইল পেকার এ কথা জানিয়েছেন। টিজে থমাসের গুড মর্নিং আমেরিকায় পেকারের একটি সাক্ষাত্কারের প্রিভিউ থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং নির্দেশনা পেলে স্মিথকে গ্রেফতার করা হতো। তবে সেক্ষেত্রে ক্রিস রকের অভিযোগ প্রয়োজন ছিল। পেকার বলেছেন, ‘ওরা (ক্রিসকে) বলছিল, আপনি চার্জ ফাইল করলে আমরা তাকে গ্রেফতার করব। আমরা এখনই প্রস্তুত আছি।’
কিন্তু ক্রিস রক সে সময় বলেন, ‘না না, কোনো সমস্যা নেই।’
পুলিশের চেষ্টা এখানেই শেষ হয়নি। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি চান আমরা কোনো পদক্ষেপ নিই?’ ক্রিস এবারো না-বোধক জবাব দেন।
ক্রিস প্রথমে পুলিশ রিপোর্ট করতে না চাইলেও পরে একবার রিপোর্ট করার কথা ভেবেছিলেন। তবে তিনি পুনরায় সে সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এ সম্পর্কে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের বরাত দিয়ে ভ্যারাইটি জানিয়েছে, ঘটনার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে রিপোর্ট করলে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক তদন্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। এসব বিষয় নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি উইল স্মিথ। এ অবস্থায় একাডেমির তরফ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছিল। কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর স্মিথকে আসর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায় উইল পেকার স্মিথকে থাকতে বলেছিলেন।
একাডেমি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে স্মিথ বলেছেন, তার কাজের জন্য ফলভোগ করতে হবে—এ বিষয়ে তিনি সচেতন। দেরিতে হলেও ফলভোগ করতে হচ্ছে। কমিটি জানিয়েছে, স্মিথের করা শারীরিক লাঞ্ছনা ও অপমানসূচক আচরণে একাডেমির সম্মান নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে একাডেমির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতির মাধ্যমে ক্রিস রকের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। একাডেমির বিবৃতিতে বর্তমানে তাদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও জানানো হয়। তবে ক্রিস রক এ বিষয়ে বেশি ভাবতে নারাজ। ঘটনার পর প্রায় দুদিন পর্যন্ত তিনি নীরব ছিলেন। এখনো নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকছেন তিনি।
সূত্র: ভ্যারাইটি










