পণ্ডিত রবিশংকরের কনিষ্ঠতম শিষ্য ঋষভ শর্মা। রিখি রাম পরিবারের ২৬ বছর বয়সী এ সেতার বাদক এর মধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছেন। নিউইয়র্কে বাস করলেও এখন ভারতে অবস্থান করছেন। সংগীতের মাধ্যমে নতুন ধারার কাজ করার চেষ্টা করছেন ঋষভ। সংগীত, সুর ব্যবহার করে তিনি মানুষের মধ্যে আশা জাগানোর চেষ্টা করেন। তাদের উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করেন। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের সময় গেড়ে বসা একাকীত্ব ও হতাশা থেকে বের হতে ঋষভকে সাহায্য করেছিল সংগীত। তিনি নিজেও জানেন এমন বহু মানুষ আছেন। তাদের জন্যই ঋষভের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। এর মধ্যে তিনি আলাদা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার সেতার শুনিয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সামনেও সেতার বাজিয়েছেন ঋষভ। তিনি বলেন, ‘আমার বাজনার মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’
ঋষভ নিজে প্রতিকূল মানসিক অবস্থা মোকাবেলা করে এসেছেন। কিন্তু এ শো আয়োজনও সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মানসিক সমস্যার বিষয়টি উল্লেখ রাখার বিষয়ে রাজি ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সবাই ভাববে আমি পাগল হয়ে গেছি। আমি তার কথা শুনে প্রথমে শোয়ের নাম বদলে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে মনে হলো আমি যা বলতে চাই তা স্পষ্ট করেই বলা উচিত।’ সংগীতের তরুণ এ কাণ্ডারির কাছে হিন্দুস্তান টাইমস জানতে চেয়েছিল, সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের এ চাপ নিয়ে তিনি কী মনে করেন? ঋষভের মতে, এ বিষয়ে তাদের দোষ দেয়ার সুযোগ নেই। কেননা তাদের বেড়ে ওঠার সময়টিতে তারা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি জানতেন না।
ঋষভ উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাঠ নিয়েছেন। বাজানোর সঙ্গে তিনি গানও করেন। কিন্তু এ সময়ে এসে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রভাব আদৌ কতটা পড়তে পারে। সংগীত যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাতে নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তার ভবিষ্যৎই বা কী। এক্ষেত্রেও ঋষভের ভাবনা স্পষ্ট ও আধুনিক। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুবই শক্তিশালী। আমাদেরই ঠিক করতে হবে আমরা সেটা কেমন করে ব্যবহার করব। আমার জন্য তো এটা আশীর্বাদ হিসেবেই কাজ করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই কমিউনিটি তৈরি করেছি।’
সংগীতের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে সেটা অনেকেই ভাবেনি। তার ওপর উচ্চাঙ্গ সংগীতের মতো জটিল বিষয়টিকে ঋষভ কেমন করে আত্মস্থ করলেন সে বিষয়টিও কৌতূহলোদ্দীপক। ঋষভ বলেন, ‘সংগীত বোঝানোটা বেশ কঠিন। বিশেষত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত। শ্রোতারা এর সঙ্গে অতটা পরিচিত নন। আমি তাই ছোট কম্পোজিশন করি। ১ মিনিটের কম্পোজিশনও আছে আমার।’ এক্ষেত্রে একটু কৌশলী হতে হয় বলে মনে করেন ঋষভ। তবে ঋষভ এ কাজটা শিখেছিলেন তার গুরুর কাছেই। পণ্ডিত রবিশংকরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গুরুজি বিচিত্র ধারার সংগীত ও শিল্পীদের সঙ্গে মিশেছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘‘সবার সংগীত শুনবে’’। আমি তা মনে রেখেছি। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে কখনো নির্দিষ্ট ধারায় আটকে রাখা হয়নি।’
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা










