নাটক, সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম সব মাধ্যমেই বিচরণ শ্যামল মাওলার। বর্তমান সময়ে ওয়েব দুনিয়ায় নিয়মিত দেখা মিলছে এ অভিনেতার। সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরো একটি সিনেমায়। অভিনয় ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে শ্যামল কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
‘আন্তঃনগর’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের জন্য ঢাকার রাস্তায় সিএনজি চালাতে হয়েছে, এ অনুভূতি কেমন?
আমাকে ঢাকার মেইন রাস্তায় সিএনজি চালাতে হয়েছে আন্তঃনগর ওয়েব ফিল্মের জন্য। সিএনজির তো অফিস মুড থাকে না। অন্য দিকে সিএনজি চালানো হয়নি কখনো নিয়মিত। চরিত্রের প্রয়োজনে হঠাৎ করে নিয়মিত সিএনজি চালাতে গিয়ে আমার হাতে ফোসকা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে ঠিকঠাকভাবে অভিনয় করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে একটা মিশ্র পরিস্থিতি।
বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় চরিত্র হয়ে পর্দায় হাজির হন। চরিত্রের সঙ্গে মিশে অভিনয় করাটা চ্যালেঞ্জ কতটা?
সত্যি হচ্ছে একেকটা চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরা বেশ কঠিন। এখানে ফাঁকিবাজির কোনো সুযোগ নেই। আমরা যারা অভিনয় করি, আমাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হয়।
পর্দায় চরিত্রগুলো নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আপনার রহস্য কী?
এটাই তো সিক্রেট। এটা বলা যাবে না।
সদরঘাটের টাইগারের প্রথম কিস্তির পর দ্বিতীয় কিস্তির জন্যও সাড়া পাচ্ছেন। সিরিজটি নিয়ে দর্শকের ইতিবাচক মন্তব্য কীভাবে দেখছেন?
একটা কাজ যখন সাড়া পায়, সেটা অনেক ভালো লাগে। প্রথম কিংবা দ্বিতীয় অংশ বলে কিছু নেই, যখন দর্শক একটা কনটেন্ট দেখে পজিটিভ মতামত দেন, অভিনেতা হিসেবে তখন অনেক ভালো লাগে। আমরা অনেক কষ্ট করে কাজ করেছিলাম।
সদরঘাটের টাইগারের প্রতিকূলতা কী ছিল?
অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের মধ্যে শুটিং করেছিলাম। জঙ্গলের মধ্যে জোঁকের কামড় খেয়ে কাজ করেছি। শীতের মধ্যে অনেক রাত পর্যন্ত শুটিং করতে হয়েছিল। নদী-নালা জোঁক সামাল দিয়ে আমরা এটা করেছি। সব মিলিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছি আর এখন দর্শকের কাছ থেকে ভালোবাসা পাচ্ছি।
ওটিটিতে আপনাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে, এর কারণ কী?
আমার কাছে ওটিটির বিভিন্ন প্রজেক্টের অফার আসছে। আমি কাজ করছি, কথা হয়ে যাছে, প্রজেক্ট লক হচ্ছে। আমার ওটিটিতে কাজ করে ভালো লাগছে। কারণ ওটিটি মাধ্যমে একজন অভিনেতার অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। এজন্য আমাকে ওটিটিতে বেশি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে আমি নাটকও করছি। দুটো মিলিয়েই চলছে।
একসঙ্গে নাটক ও ওটিটি, এরই মধ্যে সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কাজে সামঞ্জস্য করছেন কীভাবে?
আমার কাছে একই রকম লাগে। এজন্য আমি খুব বেশি সমস্যা বোধ করছি না এখনো।
একজন অভিনেতার নিজেকে চেনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম কি জরুরি?
আমার মনে হয় না এমন কিছু আছে। কারণ একজন অভিনেতা যে মাধ্যমেই থাকুন না কেন, তাকে তো অভিনয়ই করতে হবে। তাই ভালো করে অভিনয় করাটা জরুরি, মাধ্যম নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আপনার পছন্দের মাধ্যম কোনটা?
আমার ফিল্মে অভিনয় করতেই বেশি ভালো লাগে। চরিত্র ও গল্প মিলে গেলে যেকোনো ধারার সিনেমার সঙ্গেই আমি কমফোর্টেবল।
পাপী সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন কী দেখে?
এ সিনেমায় আমার চরিত্রটা সলো। এখানে সলোভাবে অভিনয় করার অনেক সুযোগ আছে। এটা দেখেই ভাবলাম, করা যেতে পারে। আমি চরিত্র ও গল্প দুটো দেখেই সিদ্ধান্ত নিই কাজ করার বিষয়ে।
আসন্ন কাজ নিয়ে বলুন?
বেশির ভাগ কাজ ওটিটিতে, তাই এগুলো নিয়ে আগে থেকে বলা যাবে না। এছাড়া নাটক করছি।
সাইলেন্স নিয়ে এখনো সাড়া পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, আমি এখনো সাইলেন্স নিয়ে দর্শকের কাছ থেকে সাড়া পাই। সামনে সাইলেন্স টু নিয়ে কাজ হবে। এখনো সাইলেন্স নিয়ে কথা হচ্ছে। অচিরেই আমরা কাজ শুরু করে দেব।










