জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে থাকা দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো কার্যালয়টিতে হামলার ঘটনা ঘটল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। গতকাল সন্ধ্যায় কাকরাইলে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, গণঅধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলার ঘটনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে এদিন বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংহতি সমাবেশ করে দলটির নেতাকর্মীরা। পরে তারা পল্টনে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে রওনা দেন। এর পরই জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলার তথ্য নিশ্চিত করেন রমনা থাকার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা ভেতরের কিছু আসবাব ভাংচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যায় পৌনে ৬টার দিকে কিছু মানুষ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে আসে। তারা কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালায় এবং পরে অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘‌হঠাৎ কয়েক যুবক স্লোগান দিতে দিতে এসে অফিসে ঢুকে ভাংচুর শুরু করেন। এরপর ধোঁয়া উঠতে দেখি। হামলার আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান থেকে পানি, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করছে। পুলিশ ধীরে ধীরে জাপার কার্যালয় থেকে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে সেখানে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এ সময় তিনি হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘‌যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।’