বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমার কথামতো দেশ চলতে হবে, এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘পোস্ট জুলাই পলিটিক্যাল থটস: হুইচ ডিরেকশন বাংলাদেশ ইজ ওয়াকিং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। যদি সেটি ধারণ করা না যায় তাহলে দলের ভবিষ্যৎ নেই, দেশেরও নেই। সুতরাং এটা বুঝতেই হবে।’
আগামীতে বিএনপি সরকারে এলে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হবে, তা উপলব্ধি করে তার দল প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস, এক বছর বা ১৮ মাসের মধ্যে ডেলিভারি দিতে না পারলে জনগণ ধৈর্য হারাবে।’
জুলাই অভ্যুত্থানকে জনগণের কৃতিত্ব উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের কৃতিত্ব কে নেবে, এ নিয়ে যদি লড়াই চলে, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেই। মুক্তিযুদ্ধের মতো এ আন্দোলনও বিক্রি করার বিষয় না। বিশ্বের যেসব দেশ বিপ্লব বা গণ-আন্দোলনের পর দ্রুত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরতে পেরেছে, তারা টিকে গেছে। আর যেসব দেশে দাবিদাওয়ার লড়াই চলতে থেকেছে, সেসব দেশে আজ গৃহযুদ্ধ চলছে, সমাজ ও অর্থনীতি বিধ্বস্ত।’
বাংলাদেশের অনেক আগে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘গণতন্ত্রে ফিরে না যাওয়ার কারণে দেশ দিন দিন নিচের দিকে যাচ্ছে। সরকার একদিকে, জনগণ আরেক দিকে—মাঝে কোনো ব্রিজ নেই।’
বিনিয়োগকারীরাও নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন বলে মন্তব্য করেছেন এ বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। নির্বাচনের পর তারা বিনিয়োগে নামবে। যারা আসছে, তারা মূলত পুরনো বিনিয়োগকারী।’
সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্কুল অব লিডারশিপের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম রাব্বানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লন্ডনের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলিয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো কথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব লিডারশিপের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কাদের চৌধুরী।










