বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আলোচনার টেবিলে যাচ্ছি কিন্তু সে আলোচনায় সফলতার মুখ দেখছি না। মনে হয় কোনো চাপের মধ্যে পড়ে সরকার একটি শুভংকরের ফাঁকির দিকে যাচ্ছে।’

গতকাল বিকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে জামায়াতে ইসলামীসহ সাত রাজনৈতিক দল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বরাবরই চেয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক মহলের প্রভাব খাটানোর ফলে সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারছে না। আমরা দাবি করেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমে নির্বাচন দিতে হবে।’

সমাবেশ শেষে জামায়াত নেতাকর্মীরা গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম ও নির্বাচন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা, স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এসব দাবিতে আজ দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সব জেলা বা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সভাপতি আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

একই দাবিতে বিক্ষোভকারী অন্য দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

এর আগে জোহরের নামাজের পর একই স্থানে গণসমাবেশ করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে। আমাদের রাজপথে আন্দোলনের আগ্রহ নেই। বিএনপি যদি জনতার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে পিআরে তাদের সমস্যা কী?’ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে পুনরায় বায়তুল মোকাররমে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় দলটির সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাউয়ুমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আসর নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। খেলাফত মজলিস বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। একই সময়ে, একই জায়গায় মিছিল করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও। বিকাল ৪টায় একই জায়গায় বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে।