চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনালের তিনটিতে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম অপারেটর নিয়োগ হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী গতকাল বন্দরের চার নম্বার ফটকে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা ডেস্ক উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন।

বন্দরের এ তিন প্রকল্পে চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ হবে। এর মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, লালদিয়ার চরে নেদারল্যান্ডসের এপিএম টার্মিনালস এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পের একটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আরেকটিতে সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালকে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিউমুরিং টার্মিনালে সবকিছুই রয়েছে। নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড বর্তমানে এটি পরিচালনা করছে। বাকি তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করে পরিচালনা করতে হবে। তাতে প্রয়োজন বিদেশী বিনিয়োগ। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরগুলোয় আমরা কিছু রূপান্তর করে দিয়ে যেতে চাই। কিছু চুক্তি সই করে দিতে চাই। এমন একটা জায়গায় আমরা নিয়ে যাব, যেখানে চাকা গড়ানো শুরু করে দিলে এরপর সেটা আর থামানো সম্ভব না। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার আসবে। তাদের থিতু হতে সময় লাগবে। ওই সময়ে যাতে কোনো কাজ থেমে না থাকে সে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে একদম ওপরে নিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বন্দরকে র‍্যাংকিংয়ে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে হলে আমাদের বেস্ট অপারেটরকে নিয়ে আসতে হবে। বন্দরে বেশ কিছু সংস্কার হচ্ছে। যেমন, আমরা একটা সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছি। এটি দারুণ একটি উদ্যোগ। কেননা, এর মাধ্যমে সবকিছু অটোমেটেড হয়ে যাবে। এ জন্য কার্যক্রম পরিচালনার সময়ও কম লাগবে। আগে সশরীরে বন্দরে এসে কাগজজমা দিয়ে যে কাজটি করতে হতো, সেটি এখন এক ক্লিকেই করা সম্ভব হবে। দুর্নীতির ও হেনস্তার যে অভিযোগ আগে শোনা যেত, সেসবও কমে যাবে। এ ছাড়া এক সময় হয়তো আমরা বন্দরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের ব্যবহার দেখতে পাব।’

অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।