জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন ও সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এছাড়া পাঁচ দাবিতে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসও। দলগুলো আলাদা সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তিন দলের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সব জেলা বা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল।

গতকাল দুপুরে পুরানা পল্টনে আইএবি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। আর রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

যে পাঁচ দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো হলো জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

গতকাল জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৬৬টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ৮৪টি প্রস্তাব সিদ্ধান্ত আকারে গৃহীত হয়। কয়েকটি প্রস্তাবের সঙ্গে দু-একটি রাজনৈতিক দল ভিন্নমত পোষণ করায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ব্যতীত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থান ও তার অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।’ জামায়াত নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ (পথনকশা) অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘কতগুলো দল, যুগপৎ কর্মসূচি হবে কিনা, সেটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। যেহেতু দাবি এক, যারা পিআরের (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি) বিষয়ে একমত, প্রতিটি দল নিজ নিজ জায়গা থেকে এ দাবিতে কর্মসূচি দিচ্ছে। সে কারণে এখনো যুগপৎ বলা যাচ্ছে না, সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম ও হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সাইফুল আলম খান প্রমুখ।

ইসলামী অন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাই, সরকার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব। কেবল নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদলের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি। দেশকে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করতে মৌলিক সংস্কার ছিল এ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য। কিন্তু সংস্কার ও বিচারকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনকে মুখ্য করে তোলা হয়েছে। যা দেশকে অশুভ বন্দোবস্তে নিপতিত করবে।’