বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটি হলো ছাব্বিশের ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা আছে, সে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, সাহায্য করা।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কার কমিশনগুলো যে সংস্কার প্রস্তাব করেছে, সেখানে বিএনপি সব ধরনের সহযোগিতা করেছে।’
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করেছে। জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়ে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে নিঃসন্দেহে আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একদিকে রাজনৈতিক, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটাবে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন এবং তার শাসনামলে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির মূল আদর্শ ও দর্শন ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি (জিয়াউর রহমান) রাজনীতিতে যেমন গুণগত পরিবর্তন এনেছিলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করেছিলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং একই সঙ্গে অর্থনীতিতে গতি আনতে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন করেছিলেন, যার ফলে অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন হয়েছিল।’
বিগত ১৫ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে। অবিশ্বাস্য রকমের একটা ফ্যাসিজম এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্যই ছিল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা। আল্লাহর অশেষ রহমতে জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই ভয়াবহ হাসিনা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি।’
এর আগে বেলা ১১টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে যান। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










