আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ভোট দেবেন ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ নাগরিক। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৪ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ ভোট দেবে। ‘জনগণের নির্বাচন–ভাবনা’ শীর্ষক জরিপের দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নাগরিক প্লাটফর্ম ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ ও ‘বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’-এর সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করে বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আরকাইভস মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় পরিচালিত এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। তিনি জানান, ২-১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ৬৪ জেলার ১০ হাজার ৪১৩ জন বিভিন্ন বয়সী ভোটারের ওপর জরিপটি চালানো হয়েছে, যা ১৫০টি আসনের প্রতিনিধিত্ব করছে।
জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতার পছন্দ কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের মার্চের চেয়ে সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের হার বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। জরিপে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, নির্বাচনে সব দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। অন্যদিকে ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিচার হওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
জরিপের ফল বলছে, ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করে আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে। অন্যদিকে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করে জামায়াত সরকার গঠন করবে। যদিও নির্বাচনে ভোট দেয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার বেড়েছে। গত মার্চে তাদেরই জরিপে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা, যা সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশে।
জরিপ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ভোটের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বিএনপি। ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক বিএনপিকে ভোট দিতে চেয়েছেন, যেখানে জামায়াতকে ভোট দিতে চেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া এনসিপি ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পাবে। তবে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট দিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
জরিপে উঠে এসেছে, অন্যান্য দলের তুলনায় ভোটাররা জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট। তরুণ ভোটার ও শিক্ষিত ভোটারদের কাছে এগিয়ে জামায়াত। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেখে ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ও প্রার্থীর যোগ্যতা ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোটার বিবেচনায় নেবেন।










