সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় জনতা। গতকাল সকাল ও বিকালে দুই দফা অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যান চলাচল। অন্তত ১০টি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ বিকাল ৪টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বরে এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে ফরিদপুর-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অন্ধকার নেমে এলে এবং বৃষ্টি শুরু হলে অবরোধকারীরা স্বেচ্ছায় মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর আবার যান চলাচল শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের গেজেটে ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে ফরিদপুর-৪ আসনের (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) ভাঙ্গা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের (নগরকান্দা ও সালথা) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
স্থানীয়রা জানায়, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে অন্য আসনভুক্ত বা উপজেলার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে এ দুই ইউনিয়নের মানুষকে। নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে তারা সকাল ৯টা থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ১০টি স্থান অবরোধ করে রাখেন। এতে রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট। আটকা পড়ে শত শত গাড়ি। বেলা ১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে যোগাযোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। আগামী সোমবারের মধ্যে ভাঙ্গার বিভাজন বন্ধ না হলে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়। তবে বিকাল ৪টার দিকে আবার অবরোধ শুরু হলে দুই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিকালে অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘ভাঙ্গার এক ইঞ্চি মাটিও নগরকান্দার হাতে ছেড়ে দেয়া হবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুপুরে বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করার পর অবরোধ তুলে নিয়েছিল। বিকাল ৪টার দিকে আবার কিছু মানুষ গোলচত্বর এলাকা অবরোধ করে।’
বিকাল ৫টার দিকে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সমস্যার সমাধানের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় চান তিনি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপস্থিত জনতা ইউএনওর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে ইউএনও ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অবরোধকারীরা স্বেচ্ছায় মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান।
এদিকে বেলা সোয়া ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শহিদুল ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ভাগ আমরা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেব না। প্রয়োজনে বিভাজন রোধে আমি ব্যক্তিগতভাবে রোববার কোর্টে যাব। আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান স্পষ্ট। আমরা একতাবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অনৈক্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমাদের এ আন্দোলন দলমত নির্বিশেষে সবার।’










