সবাই ঐক্যবদ্ধ না হলে আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই আজকে ঐক্যবদ্ধ না হই, আমরা যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো সব ঐক্যবদ্ধ না হই, আমরা যদি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তাহলে দেশ স্বাধীনের পর যেভাবে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, ২০০৮ সালের তথাকথিত নির্বাচন দিয়ে, ওয়ান-ইলেভেনের ফলে তথাকথিত নির্বাচন দিয়ে যেভাবে স্বৈরাচার দেশের কাঁধে চেপে বসেছিল, যদি আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তাহলে বলা যায় না, আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হবে না।’
গতকাল বিকালে কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘দেশ গঠনের পর এক স্বৈরাচার জেঁকে বসেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। স্বৈরশাসনকে বিতাড়িত করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আবারো স্বৈরাচার এসেছে। জনগণ আন্দোলন করে তাকে বিতাড়িত করেছে।’
জনগণকে বিএনপির ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণই হলো বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস। কাজেই জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে যদি থাকতে হয় এবং তাদের যদি সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে জনগণ যেভাবে চায় আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আমাদের একটি লক্ষ্য—সবার আগে বাংলাদেশ। যেখানেই বাংলাদেশের স্বার্থ সেখানেই বিএনপি। যেখানেই বাংলাদেশের স্বার্থ সেখানেই জাতীয়তাবাদী শক্তি। এটিই আমাদের শুরু। এটিই আমাদের শেষ। আমাদের এ সম্মেলনের লক্ষ্য ঐক্য, জনগণ ও দেশ গঠন।’
বিগত বছরগুলোয় বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর দেশের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করেছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। আমাদের নেতাকর্মীরা হত্যা, খুন, গুমের শিকার হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় জেলের ভেতর নেতাকর্মীরা মারা গেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। আজ স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এখন আমাদের সামনে দেশ পুনর্গঠন। দেশকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুনর্গঠন করতে হলে অবশ্যই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’










