ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বেতার ভবনের সামনে থেকে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এ সময় মিছিল থেকে দুজনকে আটক করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

মিছিলে অংশ নেয়া দলটির এক নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার হয়রানি করছে। এর প্রতিবাদে মিছিল করেছি।’

মিছিলের আশপাশে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘বেতার ভবনের সামনে থেকে জড়ো হয়ে কয়েকশ লোক স্লোগান দিতে দিতে আগারগাঁও মেট্রোরেলের দিকে চলে গেছে।’

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. ইমাউল হক বলেন, ‘মিছিল করার সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা। এ সময় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবারও মিরপুর ও দারুস সালাম এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ের (এনসিপি) সামনে জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে সময় আন্দোলন দমাতে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ দলটির নেতাদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। গত ১০ মে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।