চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব পরীক্ষা ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। অন্যদিকে তদন্ত কমিটি গঠন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথবাহিনী মোতায়েন থাকা ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেট এলাকায় আজ রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বর্ধিত করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এক সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট ও সিনেট সদস্য এসএম ফজলুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার (গতকাল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সব ডিন, সিন্ডিকেট সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এই মিটিংয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো—সংঘর্ষে আহত সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় প্রশাসন বহন করবে, এজন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় একটি মডেল থানা স্থাপনের বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করবে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় রেলক্রসিং এলাকায় একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এছাড়া এদিন রাতের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবে প্রশাসন।’
সংঘর্ষের ঘটনা পর্যালোচনার জন্য আজ একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছে। জোবরা এলাকার বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য একটি কমিটি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রত্যাহার না করার অনুরোধ করেছে প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একটি হটলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুহিম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্ব দিকের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মঙ্গলবার (আজ) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি বর্ধিত করা হয়েছে। এ সময় সব ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল, গণজমায়েত ইত্যাদিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান ও চলাফেরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’










