কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাঁচদিনের মাথায় রাজধানীতে আবার মিছিল করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে গতকাল বেলা ২টার দিকে তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকায় মিছিলটি শুরু হয়। হাজারের বেশি নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে তিব্বত এলাকার দিকে চলে যান। একই সময়ে দলটির আরেক অংশের নেতাকর্মীরা ধানমন্ডি এলাকায় মিছিল করেন।

আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘সকালে জিএমজি মোড় থেকে কিছু লোকজন বের হয়েছিল, আমরা মিছিল করতে দিইনি। তখন তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসান নামের একজনকে আটক করা হয়। দুপুরে আওয়ামী লীগের লোকজন নাবিস্কো থেকে আবারো বের হয়, আমরা তাদের ধরতেছি।’

মিছিলে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলেও বাঁচার সুযোগ নেই, তাহলে আর ঘরে থেকে লাভ কী? এজন্য মিছিলের নির্দেশ পেয়ে লোকজন নিয়ে নেমে পড়েছি। উত্তর আওয়ামী লীগের মিছিলে বহু লোক হয়েছে। এ অবৈধ সরকার কাউকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। শেখ হাসিনাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এর প্রতিবাদে আমরা মিছিল করেছি।’

একই সময়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হঠাৎ করে একদল যুবক মিছিল শুরু করেন। তাদের কাছে ব্যানার ছিল। কেউ কেউ হেলমেট ও মাস্কে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কাউকেই পায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঘটনা ঘটে। খুবই স্বল্প সময়ে তারা স্লোগান দিয়ে দ্রুত স্থান ছেড়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি।’

এর আগে গত ৩১ আগস্ট ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে রাপা প্লাজাসংলগ্ন রাস্তা থেকে শংকরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের সামনের সড়ক পর্যন্ত মিছিল করে আওয়ামী লীগ। এর সপ্তাহখানেক আগেও বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনদিন পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর একে একে গ্রেফতার হতে থাকেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকা অন্য দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন আত্মগোপনে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন (পাভেল) ও অঙ্গ সংগঠনের আরো সাত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলসহ নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ডিএমপি বলেছে, গ্রেফতার সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি নাশকতার পরিকল্পনা ও অর্থের জোগান দিতেন।