বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে আমরা কোনো কিছু হতে দেব না। বাংলাদেশ প্রশ্নে আমরা আপসহীন। মাথা ঠাণ্ডা রেখে, সজাগ থেকে আমাদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে।’ চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে গতকাল তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী তিন সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আর দেশের ১৮ কোটি মানুষ দেখতে চায় না। কারণ তারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংস, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা যাদের দায়িত্ব দিয়েছি দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে নেয়ার জন্য, তারা সঠিকভাবে এখনো কাজটি করতে পারছে না। ফলে মাঝেমধ্যেই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, ষড়যন্ত্রকারীদের শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা কঠিন ও অস্বাভাবিক সময় অতিবাহিত করছি। কারণ শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, তাদের প্রেতাত্মারা এখনো আছে। তারা এখনো ষড়যন্ত্র করছে বাংলাদেশে তাদের রাজত্ব কায়েম করার জন্য। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
তরুণরা জেগে উঠেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মাথা ঠাণ্ডা রেখে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে। আধুনিক উপযোগী একটি বাংলাদেশ করার শিক্ষা দিচ্ছেন তারেক রহমান। এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে কোনোভাবেই কোনো কিছু করতে দেব না। আমাদের নেতা বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ফয়সালা হবে রাজপথে, সেটাই হয়েছে। ওয়াসিমের (চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম) রক্তের বিনিময়ে আমাদের নতুন স্বাধীনতা। তাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিএনপিকে ঐক্যের সঙ্গে সামনের শত বাধা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে।’
দেশে প্রথম সংস্কার জিয়াউর রহমান করেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অর্থনীতির আজকে যে ভিত্তি গার্মেন্টস সেক্টর সেটাও জিয়াউর রহমানের অবদান। গণতান্ত্রিক দেশের জন্য তিনি যুদ্ধ করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদতের নয় বছর পর আন্দোলন সংগ্রাম করে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে ফিরে নিয়ে এসেছিলেন। কেয়ারটেকার ব্যবস্থা এনেছেন তিনি। কিছু কিছু মানুষ সব ভুলে যায়, ভুলিয়ে দিতে চায়। তারা মনে করে, সুন্দর সুন্দর মুখরোচক কথা বললেই জাতি বোধ হয় সব ভুলে যাবে।’
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কেউ যাতে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে না পারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। চট্টগ্রামের তরুণরা আজকে ছক্কা মেরেছে। এ তরুণরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা হঠানোর মূল শক্তি। কারো যদি দর্শন থাকে, ভাবনা থাকে, কর্মসূচি থাকে তাহলে তাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। কিন্তু কারো স্বার্থের জন্য দেশকে জিম্মি করা যাবে না। মানুষের মধ্যে নতুন যে ভাবনা এসেছে তা বুঝতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা শুনি, ৩১ দফার মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা অনেক আগেই বলেছে বিএনপি। কোনো দলকে তো সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জনগণের কাছে যেতে দেখিনি। আমরা কেন যাচ্ছি, আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটের জন্য, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এখানে কোনো কিছু অস্পষ্ট নেই, দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’ বাংলাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে, এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে গতকাল বিকালে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকেই তারুণ্যের সমাবেশে সমবেত হন। চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে আসেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারুণ্যের এ সমাবেশে সবচেয়ে বড় চমক ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খানের উপস্থিতি ও তার বক্তব্য।
তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই, আমি একজন স্পোর্টসম্যান। আমরা চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে চাই। আপনারা যদি মনে করেন কারো জন্য আমি খেলতে পারিনি। তাহলে এটা কোনো ক্রীড়াবিদের কথা হবে না। ক্রীড়াবিদের কথা হবে, হয়তো আমার কোনো ভুল ছিল, তাই জাতীয় দলে যেতে পারিনি। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনে চট্টগ্রাম থেকে অনেকে ক্রীড়াবিদ প্রতিনিধিত্ব করতেন। আমার সঙ্গে চট্টগ্রামের খেলাধুলা নিয়ে মীর হেলাল ভাই, ইসরাফিল খসরু ভাই, হুম্মাম কাদের ভাইয়ের কথা হয়; আমরা কীভাবে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আগের মতো নিয়ে আসতে পারি সে বিষয়ে। আমি নিশ্চিত, ওনারা যখন সুযোগ পাবেন চট্টগ্রামের ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করবেন।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের উপস্থাপনায় তারুণ্যের সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান নাজিমসহ মহানগর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।










