কোনো গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা করে অর্থনীতি চালানো যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি সবার জন্য হতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিক যাতে এ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য বিএনপির আরেকটা স্লোগান হচ্ছে—অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করা। মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেটা করে গেছেন, এখন আমরা প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ১ম বর্ষ: যুগপৎ আন্দোলন শরিক দল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়া হয়।

সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের কামার-কুমার থেকে শুরু করে, তাঁতি থেকে শুরু করে শিক্ষিত যারা আছেন সবাই যাতে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য আমরা (বিএনপি) পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মহিলারা যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন, এমনকি যারা অবসরে গেছেন তাদেরও আমরা কাজে লাগাতে চাই। অর্থাৎ প্রত্যেকটি নাগরিক যাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে, বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা রাখতে পারে। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সবার জীবনযাত্রার মান যখন বাড়বে, তখনই তারা সুনাগরিক হয়ে উঠবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা সবাই ট্যাক্স দেবেন, এই ট্যাক্সের টাকা দেয়ার কারণে সে দাবি করতে পারবে—আমার ট্যাক্সের টাকায় এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না, আমার ট্যাক্সের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতে হবে। সুতরাং নতুন বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট—আমাদের সবাই মিলে করতে হবে। আমাদের কিছু জায়গায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবার প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব ভাবনা আছে, সেটাকেও চলতে দিতে হবে। মুক্তচিন্তার পরিবেশ আমাদের অবশ্যই রাখতে হবে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে, একটার পর একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করে যেতে হবে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া হচ্ছে কারেকশন প্রসেস, এটা কারেক্ট করে, জনগণের কাছে আবার যেতে হবে, আবার যেতে হবে। এটা যদি মাথায় থাকে, তাহলে আপনি জনগণের পক্ষে থাকবেন। তাহলে জনগণের চিন্তার প্রতিফলন হয়। যারা অন্য কোনো পন্থার কথা চিন্তা করছেন, তারা অগণতান্ত্রিক চিন্তার মধ্যে ডুবে গেছেন এবং এটা বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর অবস্থা আগামী দিনে নিয়ে আসবে।’