জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেলের প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মাজহারুল ইসলাম। গতকাল বিকালে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। এর আগে বেলা সোয়া ২টার দিকে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ ঘণ্টার ভোট গণনা শেষ হয়।

ভিপি পদে আব্দুর রশিদ জিতু পেয়েছেন ৩ হাজার ৩২৪ ভোট। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক। গণ-অভ্যুত্থানের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির সমর্থিত প্যানেলের আরিফ উল্লাহ পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭৯ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেলের আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল পেয়েছেন ১ হাজার ২১১ ভোট।

আর জিএস পদে নির্বাচিত মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট। এ পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাগছাস সমর্থিত প্যানেলের আবু তৌহিদ সিয়াম পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৮ ভোট। আর স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের মো. শাকিল আলী পেয়েছেন ৯৫৯ ভোট।

অন্যদিকে ভোট বর্জনকারী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান পেয়েছেন ৬৪৮ ভোট এবং জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী পেয়েছেন ৯৪১ ভোট।

জাকসুর বেশির ভাগ শীর্ষ পদে জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেল। তারা জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে জিএস, দুটি এজিএসসহ ২০টি পদে জয় পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেল থেকে ভিপি পদ এবং দুটি করে পদে বাগছাস সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

এজিএস (পুরুষ) পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ফেরদৌস আল হাসান। তিনি ২ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের জিয়া উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ১৪ ভোট। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের তৌহিদুল ইসলাম ভূঁঞা পেয়েছেন ৭১৫ ভোট। ছাত্রদলের মো. সাজ্জাদউল ইসলাম পেয়েছেন ৭০১ ভোট। এজিএস (নারী) পদে ৩ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের মালিহা নামলাহ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৬ ভোট। ছাত্রদলের আঞ্জুমান আরা ইকরা পেয়েছেন ৭৬৪ ভোট।

শীর্ষ তিন পদের বাইরে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে আবু উবায়দা উসামা (২ হাজার ৪২৮ ভোট), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সম্পাদক পদে সাফায়েত মীর (২ হাজার ৮১১ ভোট), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম (১ হাজার ৯০৭ ভোট), সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন (১ হাজার ৯৮৬ ভোট), নাট্য সম্পাদক পদে রুহুল ইসলাম (১ হাজার ৯২৯ ভোট), সহক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. মাহাদী হাসান (২ হাজার ১০৫ ভোট) ও সহক্রীড়া (নারী) সম্পাদক পদে ফারহানা আক্তার (১ হাজার ৯৭৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মো. রাশেদুল ইসলাম (২ হাজার ৪৩৬ ভোট), সহসমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ) পদে তৌহিদ হাসান (২ হাজার ৪৪২ ভোট), সহসমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক (নারী) পদে নিগার সুলতানা (২ হাজার ৯৬৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা সম্পাদক পদে হুসনী মোবারক (২ হাজার ৬৫৩ ভোট), পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে তানভীর রহমান (২ হাজার ৫৫৯ ভোট), কার্যকরী সদস্য (নারী) পদে নুসরাত জাহান ইমা (৩ হাজার ১৪ ভোট), ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (২ হাজার ৪৭৫ ভোট), নাবিলা বিনতে হারুন (২ হাজার ৭৫০ ভোট) এবং কার্যকরী সদস্য (পুরুষ) পদে হাফেজ তারিকুল ইসলাম (১ হাজার ৭৪৬ ভোট) ও মো. আবু তালহা (১ হাজার ৮৫৪ ভোট) জয়ী হয়েছেন।

শিবিরের প্যানেলের বাইরে বিজয়ীরা: ছাত্রশিবিরের প্যানেলের বাইরে ভিপি পদ ছাড়াও সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক পদে বাগছাস সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আহসান লাবিব (১ হাজার ৬৯০ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহামুদুল হাসান (৫ হাজার ৭৭৮ ভোট), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুহিবুল্লাহ শেখ (২ হাজার ১৮ ভোট) ও কার্যকরী সদস্য (পুরুষ) মোহাম্মদ আলী চিশতী (২ হাজার ৪১৪ ভোট) জয় পেয়েছেন।

হল সংসদের ফলাফল: আল বেরুনী হলের ভিপি পদে ১০৬ ভোট পেয়ে রিফাত আহমেদ শাকিল জয়ী হয়েছেন। জিএস পদে মো. মুনতাসির বিল্লাহ জয়ী হয়েছেন। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন বুবলী আহমেদ ও জিএস পদে সুমাইয়া খানম। এ হলে এজিএস পদে কোনো প্রার্থী ছিল না। শহীদ জাহানারা ইমাম হলের ভিপি পদে মোছা. মাহমুদা খাতুন ১৫৬ ভোট ও জিএস পদে রেজওয়ানা বুশরা ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এজিএস পদে ১১৩ ভোট পেয়ে যৌথভাবে সাদিয়া খাতুন ও লামিয়া জান্নাত জয়ী হয়েছেন।

১০ নং ছাত্র হলের ভিপি পদে মো. আসিফ মিয়া ১৭১ ভোট, জিএস পদে মো. মেহেদী হাসান ১৯৭ ভোট ও এজিএস পদে মোট নাদিম মাহমুদ ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ১৫ নং ছাত্রী হলে ভিপি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোছা. শারমিন খাতুন, ১২০ ভোট পেয়ে মেহরাজ মোহনা ও ১৬৭ ভোট পেয়ে রেজওয়ানা বিনতে রহমত জয়ী হয়েছেন। বেগম সুফিয়া কামাল হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভিপি পদে জান্নাতুন নাইম শিরিন ও জিএস পদে রুবিনা জাহান তিথি জয়ী হয়েছেন।

শহীদ সালাম বরকত হলে ১১১ ভোট পেয়ে ভিপি পদে মারুফ হোসেন ও ১১৭ ভোট পেয়ে মাসুদ রানা জিএস নির্বাচিত হয়েছেন। মওলানা ভাসানী হলের ভিপি পদে আব্দুল হাই স্বপন ১৬৯ ভোট ও জিএস পদে হৃদয় পোদ্দার ১৯৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। মীর মোশাররফ হোসেন হলে ভিপি পদে খালেদ জুবায়ের শাবাব ১৫৩ ভোট ও জিএস পদে শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ ১৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে ভিপি পদে ফারজানা আক্তার উর্মী ২১৫ ভোট ও জিএস পদে প্রিয়াংকা কর্মকার পিয়া ২৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে ভিপি পদে জিএমএম রায়হান কবীর ১২৫ ভোট ও জিএস পদে আবরার শাহরিয়ার ১৩৯ ভোট পেইয়ে জয়ী হয়েছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ভিপি পদে ৩৮৭ ভোট পেয়ে রাকিবুল ইসলাম ও জিএস পদে আলী আহমদ ১৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। রোকেয়া হলে ভিপি পদে তাসনিম খন্দকার ২৫৬ ও জিএস পদে নাবিলা মাহজাবিন ৩৫৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ২১ নং ছাত্র হলে ভিপি পদে ইবনে শিহাব ২০০ ভোট ও জিএস পদে ওলিউল্লাহ আল মাহাদী ২৫৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। শহীদ রফিক জব্বার হলে ভিপি পদে মেহেদী হাসান ১৬২ ভোট ও জিএস পদে শরিফুল ইসলাম ২৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ফজিলাতুন্নেসা হলে জিএস পদে ফারজানা তাবাসসুম রূপা ৩১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে ভিপি পদে মো. সিফাতউল্লাহ ২৪৪ ভোট ও জিএস পদে মাহমুদুল হাসান সাকিব ১৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ হলে ভিপি পদে অমিত কুমার বণিক ১৬১ ভোট ও জিএস পদে মো. মাহমুদুল হাসান ইমন ১৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া হলে ভিপি পদে ফারজানা রহমান ১৬০ ভোট ও জিএস পদে ফাতিমাতুজ্জহরা ১৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রীতিলতা হলে ভিপি পদে সুমাইয়া আক্তার মিথি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও জিএস পদে ইফফা রহমান ১৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ১৩ নং ছাত্রী হলে ভিপি পদে মাহাদাদুল হাসান ১৫৫ ভোট ও জিএস ফল ঘোষণায় দীর্ঘ সময়: গতকাল বেলা সোয়া ২টার দিকে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ ঘণ্টার জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হয়। এরপর বিকালে ফল ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় লাগায় শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছিলেন শুক্রবার থেকেই। ২১টি হলে ভোট গ্রহণ শুরু হয় ১১ আগস্ট সকাল ৯টায়। সেদিন বিকাল ৫টার মধ্যে অধিকাংশ হলের ভোট গ্রহণ শেষ হলেও দু-তিনটি হলে ভোটারের দীর্ঘ লাইন থাকায় তা রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গড়ায়। রাত ১০টার পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিনেট ভবনে শুরু হয় ভোট গণনার কাজ।

জামায়াতসংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন কেনার অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনার কাজটি মেশিনের বদলে হাতে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর তা করতে গিয়ে ফল ঘোষণায় দীর্ঘ সময় লাগে।

১১ হাজার ৮৪৩ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় আট হাজার ভোট দেন। সে হিসাবে এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য তিনটা করে ব্যালট অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার ব্যালট গুনতে হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে জাকসুর ভোট গণনা শুরু হয়। সেই কাজ শেষ হয় পুরো ১৮ ঘণ্টা পর।

পদে সাদেয়া মেহজাবীন জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্যের পদত্যাগ: জাকসু নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা পদত্যাগ করেছেন। গতকাল দুপুরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ‘৩৩ বছরের আকাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি জাকসু শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গঠন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার্থে তৎপর না হয়ে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যখন ব্যবহৃত হয়, একজন নিরপেক্ষ শিক্ষক হিসেবে উক্ত কমিশনে সদস্যপদে বহাল থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

এর আগে শুক্রবার জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার পদত্যাগ করেন।

আজ বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা: আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০, ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ প্রস্তুতি, ভোট গ্রহণ ও গণনা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। তারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে ও নির্ঘুম রাত কাটিয়ে এখন পরিশ্রান্ত। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আগামীকাল (আজ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এদিন প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখতে ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলো খোলা থাকবে।’

ভোট গণনায় কয়েকজন অসুস্থ—প্রধান নির্বাচন কমিশনার: ভোট গণনার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের একজন সম্মানিত ম্যাডাম মারা গেছেন। আজকে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। এজন্য আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, আমাদের মেডিকেল সেন্টার থেকে ডাক্তারের ব্যবস্থা করেছি। যারা অসুস্থ বোধ করেছেন খানিকটা বা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা এখন ভালো আছেন।’

৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের বিপরীতে ১৭৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া ২১টি হল সংসদে ১৫টি করে মোট ৩১৫টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৪৩ জন। নির্বাচন সামনে রেখে মোট আটটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। তবে এর বাইরেও অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।