জাপানের ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট তোশিবা করপোরেশন প্রায় চার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ কাটছাঁটের পুরো প্রভাব পড়বে স্থানীয় কর্মীদের ওপর। একে নতুন মালিকানার অধীনে পুনর্গঠন উদ্যোগের অন্যতম অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
গত ডিসেম্বরে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের তোশিবা অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটিকে নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশটির প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম জাপান ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্সের (জেআইপি) নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম এ অধিগ্রহণ পরিচালনা করেছিল। এর মাধ্যমে তোশিবার এক দশক ধরে চলা করপোরেট কেলেঙ্কারির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
পরিকল্পিত কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে তোশিবার জাপানের স্থানীয় কর্মী সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ কমবে। এছাড়া কোম্পানিটির অন্যান্য পুনর্গঠন পরিকল্পনা হাতে রয়েছে। জানা গেছে, অফিস কার্যক্রমকে সেন্ট্রাল টোকিও থেকে কাওয়াসাকি শহরে স্থানান্তর করতে চায় তোশিবা।
পুনর্গঠন সম্পর্কে আরো বলা হচ্ছে, কোম্পানিটি তিন বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।
তোশিবা কোম্পানিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কনসোর্টিয়ামের প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি জাপানের প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলোর জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে কোনো কোনো অধিগ্রহণ কৌশলকে আগ্রাসী বলে সমালোচনা করেছিলেন খাত বিশেষজ্ঞরা। তবে জাপানের রক্ষণশীল ব্যবসায়িক সংস্কৃতিতে প্রাইভেট ইকুইটি ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে। কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়ের যে অংশ প্রয়োজন নেই সে অংশগুলো বিক্রি করতে চায়। পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বের জন্য সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকায় কোম্পানিগুলো প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলোর কাছে আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
এদিকে অন্যান্য জাপানি কোম্পানিও সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফটোকপিয়ার প্রস্তুতকারক কনিকা মিনোল্টা, কসমেটিকস ফার্ম শিসেইডো ও ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ওমরন। প্রবণতাটি জাপানের বিভিন্ন শিল্পজুড়ে বিস্তৃত করপোরেট পুনর্গঠনের এক প্রতিফলন তুলে ধরে।










