জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে সৌদি আরব ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখলেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কমেছে জিডিপি। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব স্ট্যাটিসটিকস (জিএএসটিএটি) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরবের জিডিপি কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। খবর দ্য ন্যাশনাল ও আরব নিউজ।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনীতির দেশটি সাম্প্রতিক বছরে জ্বালানি তেলের নির্ভরতা থেকে সরে এসেছে। এখন জিডিপির এমন পতনের জন্য জ্বালানি তেল খাতের কার্যক্রম হ্রাসকে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের কার্যক্রম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাসের কারণে জিডিপি কমে গেছে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক ও মিত্র দেশগুলোর সংস্থা ওপেক প্লাসের এক চুক্তি অনুযায়ী, জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌদি আরব সরকার। এ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রফতানি কমাতে গিয়ে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি কমেছে।

বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি সরকার গত বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের উৎপাদন দিনপ্রতি পাঁচ লাখ ব্যারেল হ্রাস করে। এ পরিমাণ উৎপাদন হ্রাসের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে আগের প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে সৌদি আরবের জিডিপি ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির জ্বালানি তেল কার্যক্রমে ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলবহির্ভূত কার্যক্রমে দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে আগের প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় সরকারি খাতে কার্যক্রম কমেছে ১ শতাংশ।

এদিকে সৌদি আরবে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জ্বালানি তেলবহির্ভূত অন্যান্য খাতের কার্যক্রম বেড়েছে। বার্ষিক ভিত্তিতে দেশটিতে জ্বালানি তেলবহির্ভূত কার্যক্রম সামগ্রিকভাবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এ খাতে সরকারি কার্যক্রম বেড়েছে ২ শতাংশ।

‘ভিশন ২০৩০’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ প্রচেষ্টার দিকে মনোনিবেশ করছে সৌদি আরব সরকার। দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের কার্যক্রম আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। এছাড়া সরকারি কার্যক্রমও ২০২২ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল।

অন্যদিকে, গত মার্চে জিএএসটিএটি প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের জিডিপি ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

এদিকে গত ৩০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে সৌদি পরিসংখ্যান সংস্থা। সেখানে বলা হয়, সৌদি আরবের পুনঃরফতানিসহ জ্বালানি তেলবহির্ভূত অন্যান্য খাতে রফতানি ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির সামগ্রিক পণ্য রফতানি ২০২৩ সালে বছরে ২২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। গত বছর জ্বালানি তেল রফতানি ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যাওয়া সামগ্রিক পণ্য রফতানি হ্রাসের পেছনে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ৯ শতাংশ বেড়ে ৭৭ হাজার ৭০০ কোটি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরব সম্প্রতি জানায়, ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কাজ করছে তারা। জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়লে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে, কিন্তু এর বদলে পরিমাণগত বৃদ্ধির ওপর মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।