থাইল্যান্ডের কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুজুকি। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে জানানো হয়েছে। থাই বাজারে গাড়ি বিক্রি কমে আসা ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য কারখানার দিকে মনোযোগ বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুজুকি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
২০০৭ সালে থাই সরকার ইকো-কার প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। ওই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সুজুকি মোটর থাইল্যান্ড (এসএমটি)। পরের বছর জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি উৎপাদন শুরু করে এসএমটির কারখানা। যেখানে প্রতি বছর ৬০ হাজার ইউনিট গাড়ি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে কিছু বিদেশে রফতানি করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে কারখানাটিতে উৎপাদন কমে আসে।
সুজুকির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা থাইল্যান্ডের বাজারে গাড়ি বিক্রি করেছি। তবে বিক্রির পরিমাণ আশানুরূপ বাড়েনি।’
কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের কারখানাটি গত মার্চ পর্যন্ত এক বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ গাড়ি উৎপাদন করেছে। ফলে এখান থেকে সরে গিয়ে এশিয়া অন্যান্য দেশ ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কোম্পানিটি।
বন্ধ হতে যাওয়া কারখানাটি থাইল্যান্ডে সুজুকির একমাত্র কারখানা, যেখানে ফোর হুইলার গাড়ি তৈরি করা হয়। এখানে কর্মরত কর্মীরা শিগগির কাজ হারাবেন। তবে এসএমটির মাধ্যমে থাইল্যান্ডে বিদ্যুচ্চালিত ও হাইব্রিড গাড়ি বিক্রির কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সুজুকি কর্তৃপক্ষ।
সুজুকির কারখানা বন্ধের ঘোষণা এমন সময় এল, যখন থাইল্যান্ডের বাজার দখলে জাপান ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দেশটিতে জাপানি গাড়ির আধিপত্য এখনো বেশ লক্ষণীয়। তবে ইভি ও হাইব্রিড মডেলের গাড়ির মাধ্যমে চীনা নির্মাতারা তা দখলের চেষ্টা করছে।
টয়োটা ও ইসুজুর মতো জাপানি গাড়ি নির্মাতারা থাইল্যান্ডের পিকআপ ট্রাক বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে আছে।
এদিকে এশিয়ার বাজারটিতে কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ইভি নির্মাতা টেসলা। চলতি বছর দেশটির পূর্ব উপকূলে গাড়ি উৎপাদন শুরু করার জন্য একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ইলোন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি।










