বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা তুলে ধরতে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) এ পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার ও ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিনিয়া হক, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর শামিমা আক্তার ও কারখানার হেড এস এম তারেক সাইফুল্লাহ ।
ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন বলেন, ‘ইউনিলিভারের টেকসই উৎপাদন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। দুই দেশের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত এটি।’
হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করা ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
জাভেদ আখতার বলেন, ‘প্রতিনিধিদের প্রথমবারের মতো কারখানা পরিদর্শন আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী করেছে।’
সফরে ইউনিলিভারের জলবায়ু সহনশীলতা, প্লাস্টিক হ্রাস, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও কমিউনিটি ক্ষমতায়নের উদ্যোগগুলোও তুলে ধরা হয়।

১৯৬২ সালে কালুরঘাটে প্রথম সাবান উৎপাদন শুরু করে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়। ছয় দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব ও আস্থার এক উজ্জ্বল ইতিহাস গড়েছে। বর্তমানে ২১টির বেশি আইকনিক ব্র্যান্ডের ৯৬ শতাংশের বেশি দেশেই উৎপাদিত হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ৩৯.২৫ শতাংশ শেয়ার মালিকানা বাংলাদেশের সরকারের, যা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সফল দৃষ্টান্ত।
১৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা কারখানাটি ২০১৪ সাল থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট টু ল্যান্ডফিল’ রেকর্ড ধরে রেখেছে এবং ২০২১ সালে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সার্টিফিকেশন পেয়েছে। ২০১০ সাল থেকে কারখানার প্রক্রিয়াগত উন্নয়নে ২৪০ কোটি লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দল উৎপাদন লাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় করেন। সফর শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য প্রতিশ্রুতি দেন।










