ঢাকায় আয়োজিত এক বহুপাক্ষিক সংলাপে শিশু নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিশুরা এতে অংশ নেয়।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দ্য ডেইলি স্টার মিলনায়তনে এ সংলাপ আয়োজন করে টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস। সার্বিক সহায়তায় ছিল ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ও ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডসের কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রোগ্রাম পরিচালক জাহিদুল ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রইসুল ইসলাম, বিটিআরসির উপ-পরিচালক এস এম তাইফুর রহমান, বিকেএমইএ-এর সহকারী যুগ্ম সচিব মার-এ-নুল ইসলাম শোভিন, ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পারভীন আক্তার, ডিএনসিসির কাউন্সিলর মেহেরুন নেসা, শিশু অধিকার ফোরামের সহ-সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, পুলিশ কর্মকর্তা নাঈমা আক্তার। এছাড়াও বিজিএমইএ- এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম, মার্ক গার্মেন্টস, কেএসি গার্মেনন্টস, ভার্কসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডসের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক নূরুল কবির প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় শিশুদের শিক্ষা, বিকাশ ও সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ ও শিশু আইন-২০১৩ থাকলেও কেবল আইন নয়, সামাজিক উদ্যোগ জরুরি। গার্মেন্ট শ্রমিকদের সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, শিশুর অধিকার রক্ষায় আইন থাকলেও প্রয়োগে ঘাটতি আছে। সরকার একা এসব কাজে সফল হতে পারবে না, তাই সবার সহযোগিতা দরকার। রইসুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ১০৯ নম্বরে শতাধিক অভিযোগ আসে, যেগুলোর বেশিরভাগই পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে নিয়ে। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য জেলা পর্যায়ে ওয়ান স্টপ সংকট কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

বিটিআরসির কর্মকর্তা এস এম তাইফুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে শিশু অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এজন্য শিশুদের সাইবার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

ইনসিডিনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী বলেন, শ্রমিক পরিবারের শিশুদের সুরক্ষায় শিল্প মালিকদের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস বর্তমানে ঢাকার মিরপুর ও সাভারে ১৬টি আর্লি চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট সেন্টার পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে বেশিরভাগই কারখানার শ্রমিকদের পাঁচ শতাধিক শিশু 'আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন অ্যান্ড কেয়ার' সেবা পাচ্ছে।

সংলাপের শেষে নজরুল ইসলাম বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কমিটি ও ওয়াচগ্রুপকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

—বিজ্ঞপ্তি