চাকরি-পরবর্তী অবসর জীবনের আর্থিক প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে সার্বজনীন পেনশন সুবিধায় পরিবর্তন আনছে জাপান। আগামী অক্টোবর থেকে এ কর্মসূচিতে দেশটিতে বসবাসরত সব বিদেশীদের নাম নিবন্ধন করা হবে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
জাপানে ৩০ লাখেরও বেশি বিদেশী নাগরিক বসবাস করছে। আগামী দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেনশন কর্মসূচির আওতায় থাকলে বিদেশী নাগরিকরাও বৃদ্ধ বয়সে জাপানে বসবাস করার মতো মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি পাবেন।
প্রচলিত জাতীয় পেনশন স্কিমে বিদেশীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক প্রবাসী এ পরিষেবা থেকে বাদ পড়ে গেছেন। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে টোকিও।
জাতীয়তা নির্বিশেষে জাপানে বসবাসকারী ২০-৫৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জাতীয় পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার বিধান রয়েছে। বিদেশীদের স্থানীয় সরকারি অফিসে ঠিকানা নিবন্ধন করার সময় বিষয়টি অবহিত করা হয়। তা সত্ত্বেও পেনশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক ব্যক্তি বাদ পড়ে যান।
২০১৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, জাপানে বসবাস করছেন অথচ পেনশন প্রোগ্রামে নথিভুক্ত হননি এমন বিদেশীর হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, অথচ একই বয়সী জাপানিদের ক্ষেত্রে এ হার দশমিক ১ শতাংশ।
বাদ পড়া ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিদেশীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, স্বনির্ভর ব্যক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্রের ইন্টার্ন প্রশিক্ষণার্থী। এ প্রশিক্ষণার্থীরা কর্মক্ষেত্রে পেনশন ব্যবস্থায় নথিভুক্ত নাও হতে পারেন। বিষয়টি জাতীয় পেনশনে তাদের তালিকাভুক্তি ও অবদানকে প্রভাবিত করে থাকে।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পেনশন পরিষেবার পুরনো নিয়মগুলো সংশোধন করবে। দেশটিতে আসা নতুন অভিবাসীদের তথ্য পেতে আবাসিক নিবন্ধন সংস্থার সাহায্য নেবে। এর মাধ্যমে পেনশন পরিষেবার যোগ্য বিদেশীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত করা হবে।
পেনশন পরিষেবায় এরই মধ্যে জাপানে বসবাসকারী ৪ শতাংশ বিদেশী নথিভুক্ত রয়েছে।
জাপানের নিয়ম অনুসারে, যে ব্যক্তিরা পেনশন ব্যবস্থায় নথিভুক্ত নন, তারা ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। তালিকাভুক্ত না হলে অক্ষম ব্যক্তিরা অবসরকালীন সুবিধা ও অক্ষমতার কারণে প্রযোজ্য ভাতা উভয়ই হারাবেন।
জাপানে প্রবাসী শ্রমিকরাও পাবলিক পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করবেন। তবে যেসব দেশ জাপানের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তেমন বিদেশীরা জাপানে পাঁচ বছর বা তার কম সময়ের জন্য কাজের ক্ষেত্রে পেনশনের জন্য তালিকাভুক্ত হবেন না। তাদের নিজ দেশে পাবলিক পেনশন প্রিমিয়াম দিতে হবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ অনুসারে, ২০৩০ সালে জাপানে বিদেশীর সংখ্যা ৪২ লাখে পৌঁছাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ এ হবে সংখ্যা ৭২ লাখ ৯০ হাজার।










