২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেট হবে ‘ব্যবসাবান্ধব’ এবং অটোমেশনের মাধ্যমে এনবিআরকে আরো আধুনিক করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাজেটে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম শহরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কনফারেন্স হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চেম্বার প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা।

সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান, উইমেন চেম্বার সভাপতি আবিদা মোস্তফা, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি চেম্বারের সভাপতি, কাস্টমস, আয়কর ও ভ্যাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত অর্থবছর ৪৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন, কিন্তু এর মধ্যে ৩০ লাখই শূন্য রিটার্ন। মাত্র ১৫ লাখ করদাতা থেকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এটি অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। তাই করের আওতা বাড়াতে অটোমেশন চালু করা হচ্ছে, সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ১ লাখ ৬০ হাজার সার্টিফিকেট এরই মধ্যে অনলাইনে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, আয়কর ও ভ্যাট দুটোই ঘরে বসে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আগামী বাজেটে করহার যৌক্তিকীকরণ, রিফান্ড ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং কর অব্যাহতির সীমা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। মার্কিন শুল্কের প্রভাব মোকাবেলায় পোশাক শিল্প সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি।

চেম্বার প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, ‘ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য সময়োপযোগী সংস্কার দরকার। সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা উচিত। এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর চাপ কমবে এবং কর প্রদানে উৎসাহ বাড়বে।’ তিনি জানান, চেম্বার থেকে এনবিআরকে ১৯টি আয়কর, ৪০টি ভ্যাট এবং ৫৫টি শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। শেয়ারের ওপর ৪০ শতাংশ এবং ডিভিডেন্ডের ওপর ২৫ শতাংশ দিলে কী থাকে উদ্যোক্তাদের। তিনি এ করহার কমানো এবং প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর করহার কমানোরও আহ্বান জানান।

সভায় অন্য বক্তারা ছোটখাটো ভুলের কারণে অতিরিক্ত জরিমানা না করার আহ্বান জানান। তারা এইচএস কোড জটিলতা নিরসন, দ্রুত রিফান্ড, সিঙ্গেল ডিজিট ভ্যাট হার, অডিট সহজীকরণ, সেন্ট্রাল বন্ড সিস্টেম চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টমসে জনবল ও প্রযুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এনবিআরের সদস্য একেএম বদিউল আলম, সাবেক পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, টিকে গ্রুপ, এইচআরসি, লুব-রেফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সভায় বক্তব্য দেন।