ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিস্তারিত তদন্ত সম্পন্ন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১৯ আগস্ট সংস্থাটির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সার্ভেইল্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজার শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ডিএসইকে নির্দিষ্ট কিছু টার্মস অব রেফারেন্সের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কোনো চক্রের মধ্যে সমন্বিত, কারসাজিমূলক বা কৃত্রিম লেনদেনের কোনো প্রয়াস রয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করা। অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের (ইউপিএসআই) কোনো ধরনের অপব্যবহার বা নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন বিধিমালা ও বিএসইসির নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কিনা তা পরীক্ষা করা। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করতে বা তা রোধে কোনো ব্রোকার বা তাদের প্রতিনিধিদের অবহেলা কিংবা প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা ছিল কিনা তা নিরূপণ করা। সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রচলিত আইনের কোনো লঙ্ঘন ঘটে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১ লঙ্ঘনের ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতন করার জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকাজে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) আমরা টেকনোলজিসের যাবতীয় লেনদেনের তথ্য ডিএসইর কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত ১০ মে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১১ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর ২০ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭২ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারটি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৯ টাকা ৫০ থেকে ২৪ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

অস্বাভাবিক শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ জানতে এরই মধ্যে ডিএসই ও সিএসই পৃথকভাবে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। এর জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, শেয়ারের দাম ও লেনদেনের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে তারা অবগত নয়। ব্যবসা পরিচালনা, আর্থিক অবস্থান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, যা শেয়ারের এ মূল্যবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করতে পারে।