নারায়ণগঞ্জের বৃহত্তম পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে সয়াবিন তেল ও চিনির বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
গত এক মাসের ব্যবধানে দুটি পণ্যের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫-৮ টাকা।
সে হিসাবে প্রতি বস্তা চিনির (৫০ কেজি) দাম ৪০০ টাকা এবং প্রতি মণ সয়াবিনের দাম ২০০ টাকা বেড়েছে।
দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য দুটি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুটি পণ্যই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল এনে উৎপাদন করতে হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য দুটির দাম বাড়তি থাকায় দেশের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মিল মালিকরা কাঁচামাল আমদানি করে তাদের মিলে উৎপাদনের পর মিল গেট থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন, পাইকারি বাজারের ক্রেতারা সেই মূল্যে ডিও কিনে বাজারে বেচাকেনা করছেন।
নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সয়াবিন তেল পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ১৩৫ টাকা দরে।
প্রতি মণ তেল বেচাকেনা হচ্ছে ৫ হাজার ৪০০ টাকা দরে।
এক মাস আগেও পণ্যটি মণপ্রতি ৫ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
চিনি বর্তমানে ৭৪-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
৫০ কেজির চিনির বস্তা ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ লকডাউনেও প্রতি বস্তা চিনি বেচাকেনা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০০ টাকা বস্তা দরে।
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আহসান উল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা মূলত মিল গেট থেকে পণ্য কিনে স্বল্প লাভে দেশের বিভিন্ন জেলার দোকানদার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।
দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসে নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
কারণ এখানে মজুদ করে রাখার কোনো উপায় নেই।
আমরা মিল থেকে ডিও এনে ট্রাকে করে আমাদের গোডাউনে রাখি।
দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে যাচাই-বাছাই করে যে দোকানে পাঁচ বা দশ পয়সা কম পান সেই দোকান থেকেই পণ্য কিনে নিয়ে যান।
তিনি আরো বলেন, মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়তির দিকে।
ফলে দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে।
তবে দাম বাড়লেও পাইকারি বাজারে বেচাকেনা খুবই মন্দা।
আগে যে ব্যবসায়ী ১০ ড্রাম সয়াবিন তেল কিনতেন, সে ব্যবসায়ী এখন নিচ্ছেন চার-পাঁচ ড্রাম।
নগরীর কালিরবাজারে জয়গুরু ভাণ্ডারের মালিক কালিপদ রায় জানান, পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮ টাকা। পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের কেজিপ্রতি চিনি ক্রয় করতে হচ্ছে ৭৫ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারে ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা দরে চিনি বেচাকেনা করতে হচ্ছে। কালিরবাজারের ক্রেতা নারগিস বেগম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম লকডাউনের পর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বেতন বাড়েনি। ফলে আমাদের জীবন ধারণ করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুদৃষ্টি দেয়ার দাবি জানান তিনি।










