বৈশ্বিক বন্ড মার্কেটে জুনে সর্বোচ্চসংখ্যক সরকারি বন্ড ইস্যু হতে যাচ্ছে। কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া মাসটিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলোরই নিট বন্ড সরবরাহের পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। খবর রয়টার্স।
দেশে দেশে প্রকাশিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেশির ভাগ স্থানেই সুদহার কমানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ শঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে সর্বোচ্চ মাত্রায় বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারি ঋণ আরো ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্যতা।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোনভুক্ত দেশ ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের কাছে থাকা সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্ড নিষ্পত্তির পরিমাণও কমে গেছে। ফলে দেশগুলোর সরকারি বন্ডের নিট সরবরাহ বেড়ে ৩৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই বাজারে আসা বাড়তি বন্ডগুলো বেচাকেনা হবে। তবে এটি বন্ড ইল্ডের (বিনিয়োগের বিপরীতে আসা রিটার্ন) ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। ফলে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বন্ড কেনার খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে সুদহার কমানো নিয়ে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা শঙ্কায় পড়তে পারেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি অকশনে বন্ডের জোগানের বিপরীতে চাহিদার পরিমাণ কম ছিল, যা সরকারি বন্ডের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের আশাবাদী মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানগুলো বলছে, দেশটির অর্থনীতি উন্নতির ধারায় আছে। ফলে ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর সময় নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করছেন।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান বিএনপি পারিবাসের এক নোটে জি-টেন রেটস স্ট্র্যাটেজি ফর ইউরোপের প্রধান ক্যামিলে ডি করসেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারদের হাতে মার্কেটে ছাড়ার মতো প্রচুর বন্ড অবশিষ্ট আছে। ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলো জুনে চলতি বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেট বন্ড সরবরাহের মাস দেখতে যাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ইতিবাচক দিকে। দেশগুলোয় সরবরাহও বেড়েছে। ফলে ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার কমাতে পারে। তবু জুনে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের বিক্রি নিয়ে শঙ্কার কারণ আছে বলে মনে করেন করসেল। তিনি বলেন, ‘বন্ড ইল্ড বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে ইউরোপে জুনের ঝুঁকির ব্যাপারে আমরা সচেতন হয়েছি।’
ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনও ব্যয়ের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ফলে বন্ড থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী হয়েছে দেশগুলোর সরকার।
অন্যদিকে, দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘কোয়ান্টিটেটিভ টাইটেনিং’ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে থাকা বন্ড কমাচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভ ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সরকারি ও বন্ধকি বন্ডকে মাসিক রিপ্লেসমেন্ট ছাড়াই মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ দিচ্ছে। যদিও জুন নাগাদ এটি কমে যেতে পারে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও বাজারে বন্ড বিক্রি করছে।










