চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাজ্যের দোকানগুলোয় খুচরা বিক্রি বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় ভোক্তারা আরো বেশি কিনতে আগ্রহী হয়েছে। কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির (সিবিআই) প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সিবিআইর প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে খুচরা বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে না কমেছে। ৮ শতাংশের বেশি খুচরা বিক্রেতা জানিয়েছেন মে মাসে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। এটি এপ্রিলের তুলনায় একটি বড় উন্নতি। যেখানে ৪৪ শতাংশের বেশি খুচরা বিক্রেতা বলেছিলেন বিক্রি কমেছে।
মে মাসের এ পরিসংখ্যান ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে সিবিআইয়ের জরিপে সবচেয়ে ইতিবাচক। সিবিআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ অল্পেশ পালেজা বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায় স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোক্তাব্যয় স্বাভাবিক রাখতে মূল্যস্ফীতি কমে আসা ও মজুরি বৃদ্ধি আরো অবদান রাখবে।’
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে কেনা পণ্যের পরিমাণও মার্চের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তারা আসবাবপত্র, পোশাক, ক্রীড়া সরঞ্জাম, গেমস ও খেলনার মতো দামি আইটেমগুলো কম কিনেছে। এসব জিনিস না কেনার মূল কারণ ছিল চলতি বছর স্বাভাবিকের চেয়ে আগেই ইস্টার উৎসব চলে আসা।
সিবিআইয়ের তথ্যানুসারে, যুক্তরাজ্যের দোকানের পণ্যের মূল্য এখন ধীরগতিতে বাড়ছে, যা ২০২০ সালের আগস্টের পর সবচেয়ে ধীরগতিতে রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের নিচে ছিল। এটি আগামী জুনে সামান্য বাড়বে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের পরিসংখ্যানেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। দোকানের পণ্যের মূল্য মে মাসে দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলে দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালের নভেম্বরের পর এটিই ছিল সবচেয়ে ধীরগতির মূল্যবৃদ্ধি।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে তার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এ পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানাবে বলে মনে করছেন সিবিআইয়ের অর্থনীতিবিদরা। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুনে সুদহার কমানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিবিআইয়ের পরিসংখ্যানে দীর্ঘমেয়াদি চিত্র ততটা ভালো ছিল না। সিবিআই ১৩৭টি খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জরিপ করেছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল চেইন স্টোর। সিবিআই জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজারে চাকরি কমে আসছে। দেশটিতে টানা সাত প্রান্তিক ধরে কর্মসংস্থান কমেছে। খুচরা ব্যবসায় নিযুক্ত কর্মীদের সংখ্যা আগামীতে আরো কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










