বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে মাদারবোর্ড (পিসিবি ও পিসিবিএ) রফতানি শুরু করেছে ওয়ালটন। তাদের তৈরি বিশ্বমানের এ মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অত্যাধুনিক সক্রিয় গানশট শনাক্তকরণ ও জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা সিস্টেমের সিকিউরিটি ডিভাইসে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, যে দেশে সিলিকন ভ্যালি আছে, সে দেশে আমরা মাদারবোর্ড রফতানি করছি। এটি নিঃসন্দেহে ওয়ালটন ও বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি পণ্য আমদানি করছে। এটা শুধু ওয়ালটনের নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সেফপ্রো টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পল এল একারট। তিনি বলেন, ওয়ালটন ইনোভেশন, কোয়ালিটি ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের কাছ থেকে বিশ্বমানের মাদারবোর্ড নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, ওয়ালটন তাদের নিজস্ব প্ল্যান্টে বিশ্বমানের পিসিবি ও পিসিবিএ তৈরি করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় উদ্যোক্তাদের চাহিদা পূরণ করছে। সম্প্রতি গ্রিসেও তারা ১০ হাজারের বেশি মাদারবোর্ড রফতানি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে বৈদেশিক আয়ের নতুন উৎস তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন ওয়ালটন ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, ওয়ালটন মাইক্রো-টেক করপোরেশনের সিইও নিশাত তাসনিম শুচি এবং এক্সেনটেকের এমডি ও সিইও আদিল হোসেন নোবেল।
ওয়ালটনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে আমেরিকার উইসকনসিন প্রদেশভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সেফপ্রো টেকনোলজিস ইনকরপোরেশনকে প্রায় আড়াই হাজার মাদারবোর্ড রফতানি করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। সেফপ্রো টেকনোলজিস যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ও জনসমাগমস্থলে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরিতে সুনাম অর্জন করেছে। তাদের সরবরাহ করা ডিভাইসে এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশের ওয়ালটনের হার্ডওয়্যার।
ওয়ালটন আরো জানিয়েছে, দেশে একমাত্র তারা পিসিবি উৎপাদন করছে। এ মাদারবোর্ড ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের সিকিউরিটি ডিভাইস তৈরি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে। এসব ডিভাইস তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ শুটিং শনাক্ত, প্রতিরোধ, সতর্কতা প্রদান ও দ্রুত উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে। এতে অডিও ও ভিজ্যুয়াল সংকেত ব্যবহার করে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
—বিজ্ঞপ্তি










