জাতীয় উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শে রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দিচ্ছে ইসলামাবাদ। এর অংশ হিসেবে পিআইএ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে পাকিস্তান সরকার। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চলতি মাসে ৮০টির বেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দুই দশকে প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার লোকসান দেয়া পিআইএ।
অর্থনৈতিকভাবে কয়েক বছর ধরে খারাপ সময় পার করছে পাকিস্তান। উচ্চ ঋণের বোঝার সঙ্গে রয়েছে মন্থর জিডিপির সংকট। এ সংকট থেকে উত্তরণে পাকিস্তান বেশ আগেই ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শরণাপন্ন হয়েছে। এর আগে ঋণ নিলেও ভবিষ্যতে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে চায়। এ কারণে সংস্থাটি পাকিস্তানকে কিছু সংস্কারমূলক শর্ত দিয়েছে। ওই শর্ত পূরণে বেসরকারীকরণের দিকে হাঁটছে ইসলামাবাদ।
বেসরকারীকরণের তালিকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে নারীদের জন্য বিশেষায়িত একটি ব্যাংক এমনকি নিউইয়র্কের একটি হোটেলও রয়েছে।
দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, ৪ মে পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়সীমায় ১০টি কোম্পানি পাকিস্তানের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারত্ব কেনার জন্য দরপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি টাইকুন আরিফ হাবিব, অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা গেরিস গ্রুপ ও দেশটির তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানিও রয়েছে। পরে দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা ১৮ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
দুই বছর আগে জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থাকে বেসরকারীকরণে ছেড়ে দেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। বর্তমানে ভিন্ন পরিস্থিতিতে সে পথে হাঁটছে পিআইএ। কারণ প্রক্রিয়া সফল হলে আইএমএফের ৬০০-৮০০ কোটি ডলার ঋণ প্রাপ্তি সহজ হবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির পরামর্শ হলো, লোকসানে থাকা সংস্থাগুলোকে পাকিস্তান সরকারের ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করতে হবে। এতে নড়বড়ে অর্থনীতি কিছুটা গতি পাবে।
বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ার দরপত্র আহ্বানের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান এয়ারলাইনসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যূনতম কোনো দর নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ৩০ কোটি ডলার থেকে নিলাম ডাক শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।’
পাকিস্তান এর আগেও প্রায় ৮০ বছরের পুরনো এ উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা বিক্রির চেষ্টা করেছে। তবে তখন সফল হয়নি। ২০১৬ সালে পিআইএর বেসরকারীকরণের ঘোষণা দিলে কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন, এতে এক সপ্তাহ ফ্লাইট স্থগিত ছিল। পরে ওই উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় সরকার।
সাম্প্রতিক বেসরকারীকরণ উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিল (এসআইএফসি)। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি পাকিস্তানে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কাজ করে। সংস্থাটির পেছনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের গবেষণা সংস্থা উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘এখন যে বিষয় ভিন্নতর করে তুলেছে, তা হলো সামরিক বাহিনী এ সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে জোর দিচ্ছে। তার পরও এরই মধ্যে সংকটে থাকা অর্থনীতিকে বেসরকারীকরণের ধারা কতটা সাহায্য করতে পারে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’










