চলতি বছর সৌদি আরবের জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে সৌদি ক্যাপিটাল মার্কেট কোম্পানি রিয়াদ ক্যাপিটাল। জ্বালানি তেলভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সৌদি সরকার যে নীতি অবলম্বন করেছে তা এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। খবর আরব নিউজ।
সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে রিয়াদ ক্যাপিটাল জানিয়েছে, জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনীতি ২০২৫ সালে আরো ত্বরান্বিত হয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশের হারে বাড়বে। রিয়াদ ক্যাপিটালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তেলবহির্ভূত আর্থিক নীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা পূর্বাভাস করছি এই খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। সামনের বছরগুলো প্রবৃদ্ধির এই হার আরো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে।’ দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরগুলোয়ও অব্যাহত ছিল। খাতটিতে ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ ও ২০২৩ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের উন্নয়ন করা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভিশন ২০৩০ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। যার আওতায় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচি সফল করতে চায় রিয়াদ।
প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরবের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী বছরগুলোয় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত। ২০২৪ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে যা ৫ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুসারে, সৌদি আরবের রাজস্ব ঘাটতি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে জিডিপির ৩ শতাংশ ও ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
রিয়াদ ক্যাপিটাল বলছে, সৌদি আরবের মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালে ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, ২০২৫ সালে যা সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ মাসে সৌদি আরবে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বেড়ে দিনপ্রতি ১০ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৫ সালে এ উৎপাদন আগের বছরকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে রিয়াদ ক্যাপিটাল।
রিয়াদ ক্যাপিটাল বলছে, উৎপাদন বাড়লেও ২০২৪ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে তেল খাতে অবদান ঋণাত্মক ২ দশমিক ২ শতাংশ থাকতে পারে।
বিশ্লেষণে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম অস্থির থাকতে পারে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০-৯০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।










