মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ চলতি বছর ১৭৫ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। এ বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ আভাস দেয়া হয়েছে। খবর আরব নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় তিন গুণ বাড়বে। সে হিসাবে চলতি দশকের শেষে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ১ ডলার বিনিয়োগ হলে ৭০ সেন্টই যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। বর্তমানে খরচ হয় ২০ সেন্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের ১২টির মধ্যে পাঁচটি দেশ কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জন করতে চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান। সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েত লক্ষ্য পূরণ করতে চায় ২০৬০ সালের মধ্যে।
ইউএই জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নির্গমনের পরিমাণ ২০১৯ সালের চেয়ে ১৯ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও রয়েছে দেশটির। মধ্যপ্রাচ্যের সামনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগালে এবং গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি খাতে তেল ও গ্যাসনির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।
উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরবের কথা বলা হয়। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা ১৩০ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। বর্তমানে তাদের সক্ষমতা ৫ গিগাওয়াটের সামান্য বেশি। বর্তমানে সৌদি আরবে ‘আল-শুয়াইবাহ সোলার পাওয়ার প্লান্ট’ নামের একটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। অন্যদিকে ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম সোলার পার্ক’ নির্মাণ করছে ইউএই।
আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৩ ট্রিলিয়ন (৩ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নির্মাণে।
আইইএ বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২০ সাল থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বে তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে খরচও আগের চেয়ে কমেছে। উদাহরণ হিসেবে আইইএ বলছে, গত দুই বছরের ব্যবধানে সোলার প্যানেলের খরচ ৩০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া শক্তিকে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ব্যাটারির বিভিন্ন ধাতু ও খনিজ পদার্থের দামও দ্রুত কমছে। আইইএর হিসাবে, ২০২৪ সাল শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ হাজার কোটি ডলারে, যা ২০২০ সালের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি।
আইইএ বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এ প্রবৃদ্ধি ‘অ্যাডভান্সড ইকোনমিকস’ প্রবৃদ্ধির সমানুপাতিক। যদিও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ক্লিন এনার্জিতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে অন্যদের চেয়ে চীন অনেক এগিয়ে। ২০২০ সালের তুলনায় এ খাতে তাদের বিনিয়োগ বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।
আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশগুলোয়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।










