আর্থিক সেবা খাতে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে দরকার সম্মিলিত প্রয়াস। ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নারীদের বিশেষায়িত আর্থিক সেবার প্রয়োজন। আর আর্থিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবেলা করতে পারলে জাতীয় অন্তর্ভুক্তি কৌশল বাস্তবায়নের (এনএফআইএসবি) লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

গতকাল যশোরের একটি হোটেলে ‘জেন্ডার রেসপনসিভ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’ শীর্ষক আয়োজিত দুদিনব্যাপী কর্মশালায় সমাপনী দিনে এসব কথা বলেন বক্তারা। ২০২৬ সালের মধ্যে সব পূর্ণবয়স্ক মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় নিয়ে আসা এবং এনএফআইএসবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিআরডি) ওই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালার লক্ষ্য ছিল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নারীরা কেন পিছিয়ে রয়েছে তা খুঁজে বের করা। যাতে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের সেবা দানের ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক হতে পারে। জেন্ডার গ্যাপ ইন ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন (জিজিআইএফআই) প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন সিআরডির পরামর্শক ড. লীলা রশীদ। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাবে এসব এনজিওর সুদহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে যেভাবেই হোক ব্যাংকের স্বল্প সুদের আর্থিক সুবিধার আওতায় নারীদের আনতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং, উপশাখা খোলাসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।’ 

বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) এবং বিআইবিএম-সিআরডি প্রকল্পের স্টাডি টিম লিডার ড. শাহ্ মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে (ব্যাংক, বীমা) নারীদের একটি হিসাব থাকতে হবে। যেখানে নারীদের অন্যান্য আর্থিক সেবার পাশাপাশি ঋণ প্রয়োজন হলে যাতে সহজে তা পেতে পারে, এটা নিশ্চিত করা দরকার।’