ডাটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড পরিষেবার ওপর সম্প্রতি মনোযোগ বাড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি এ খাতে বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ অঞ্চলের দুই দেশে ৩৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন টেক জায়ান্টটির প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা। খবর এপি ও টিআরটি।

সত্য নাদেলার সাম্প্রতিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে অন্তর্ভুক্ত ছিল ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। এ সফরে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বড় অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ২২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মাইক্রোসফট। এ বিষয়ে সত্য নাদেলা বলেন, ‘মালয়েশিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে আগামী চার বছরে দেশটিতে ২২০ কোটি বিনিয়োগ করবে মাইক্রোসফট, যা এখানে ৩২ বছরের ইতিহাসে একক বৃহত্তম বিনিয়োগ।’

এ বিনিয়োগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি একটি এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স তৈরি হবে ও দুই লাখ মালয়েশিয়ান এআই প্রশিক্ষণ পাবেন।

এর আগে ইন্দোনেশিয়া সফরে ক্লাউড ও এআই অবকাঠামোয় ১৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা। তিনি বলেন, ‘২৯ বছরের ইতিহাসে দেশটিতে এটিই মাইক্রোসফটের একক বৃহত্তম বিনিয়োগ।’ এছাড়া থাইল্যান্ডে কোম্পানির প্রথম আঞ্চলিক ডাটা সেন্টার নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিশ্বের বৃহত্তম ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবাগুলোর একটি মাইক্রোসফট। সম্প্রতি সার্চ ইঞ্জিন বিংয়ে একটি স্মার্ট চ্যাটবট যোগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ আয় প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মাইক্রোসফট ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ২০ শতাংশ বেশি মুনাফা করেছে। সে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এআইয়ের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সচেষ্ট হয়েছে মাইক্রোসফট।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে জাকার্তায় সিইও সত্য নাদেলা বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়াসহ সারা বিশ্বে মানুষ কীভাবে বাস করে ও কীভাবে কাজ করে তা পুনর্নির্মাণ করছে নতুন প্রজন্মের এআই ।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ বিনিয়োগগুলো ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নতি, নতুন প্রযুক্তির শেখাতে প্রশিক্ষণ ও সফটওয়্যার ডেভেলপারদের সহায়তা করবে।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রযুক্তি খাতে আগামী দিনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। এ অঞ্চলে এআইয়ের উত্থান মাইক্রোসফটের অর্থনৈতিক পরিসরকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্লোবাল কনসালটিং ফার্ম কার্নির এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এআই খাত ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জিডিপিতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে পারে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার হিস্যা হতে পারে ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।

ভারত ও চীনের পর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তৃতীয় বৃহত্তম ডেভেলপারদের আবাসস্থল ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে ৩১ লাখেরও বেশি ডেভেলপার রয়েছেন, তারা মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন প্লাটফর্ম গিটহাব ব্যবহার করেন। ২০২৬ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া গিটহাবের শীর্ষ পাঁচটি ডেভেলপার কমিউনিটির একটি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাইক্রোসফটের সিইওর আঞ্চলিক সফরের প্রথম গন্তব্য ছিল ইন্দোনেশিয়া। এরপর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করেন তিনি। সফরে ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সঙ্গে দেখা করেন সত্য নাদেলা। ওই সময় উইডোডো ইন্দোনেশিয়ায় একটি এআই গবেষণা কেন্দ্র এবং বোর্নিও দ্বীপে একটি মাইক্রোসফট ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব করেন।

এর আগে অ্যাপলের সিইও টিম কুক এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সঙ্গে বৈঠক করেন।৷ ওই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন কুক।