ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে পণ্যে আনার ক্ষেত্রে সীমান্ত চেকিং পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন ও বিলম্বিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রায় ৪৭০ কোটি পাউন্ড খরচ হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সে ব্যয় আরো বাড়তে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাজ্যের পাবলিক ব্যয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ন্যাশনাল অডিট অফিসের (এনএও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, সীমান্তে পণ্য চেকিংয়ে উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে অন্যতম গত মাসে চেকিং শুরুর আগে পরিদর্শকদের গুরুতর ঘাটতি দেখা দেয়া।
আরো বলা হয়, ইইউ থেকে আমদানি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে সরকার পরিকল্পনার বার বার পরিবর্তন এনেছে ও এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এ কারণে ব্রিটেনে ব্যবসায়ের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে পরিচালিত করছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি কবে ঘটবে তার সুস্পষ্ট কোনো সময়সূচি এখনো জানানো হয়নি। পাশাপাশি সমন্বিত আন্তঃসরকারভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ৪৭০ কোটি পাউন্ডের পরিকল্পনার মধ্যে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সম্পর্কিত প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত। যার মধ্যে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২৬০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে এনএওর প্রতিবেদনে।
গত এপ্রিল থেকে চালু হওয়া উদ্ভিদ ও প্রাণী আমদানিতে ফিজিক্যাল চেকিংয়ের প্রতি দেশটির কেবিনেট অফিসের আস্থা অ্যাম্বার রেটিং পেয়েছে। অ্যাম্বার রেটিংয়ের অর্থ হলো বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা রয়েছে। এরই সঙ্গে চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত বন্দর স্বাস্থ্য পরিদর্শক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সরকার স্বীকার করেছে, প্রথম দিন থেকেই প্রয়োজনীয় শতভাগ কর্মী দিতে পারবে না তাদের কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি আইটি-বিষয়ক সমস্যার কারণে সীমান্ত পোস্টগুলোয় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত লরি আটকে রাখার ঘটনার পর সরকারের প্রস্তুতির অভাবের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ইইউ থেকে পণ্য নিয়ে আসা অনেক আমদানিকারকের ব্যবসা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
গত ৩০ এপ্রিল ইইউ থেকে প্রাণী ও উদ্ভিদজাত পণ্য নিয়ে আসার ক্ষেত্রে লরিগুলোয় ফিজিক্যাল চেকিং পদ্ধতি চালু করেছিল যুক্তরাজ্য, যা ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের পণ্য আমদানিতে ইইউর আরোপিত চেকিং পদ্ধতির একটি প্রক্রিয়া বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জানুয়ারিতে কর্মী সংকট কেবিনেট অফিস জটিল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ২০২১ সালের জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত পাঁচবার বিলম্বিত হয়েছে। যার মধ্যে ২০২২ সালে ঢেলে সাজানোর এক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় চেকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছিল।
এনএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার বার বিলম্ব ও পদ্ধতির পরিবর্তনে সরকার অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য যে তহবিল ব্যয় করেছিল, তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর মধ্যে ডোভারের কাছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পোস্ট হিসেবে দুটি অব্যবহৃত সাইটে ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে আটটি অস্থায়ী ফ্যাসিলিটিতে ২৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করা হয়েছে। তবে সেগুলো এখন পুরোপুরি বন্ধ।










