সিঙ্গাপুরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় ক্রমেই নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। ২০২৩ সালে দেশটির পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ ও দাতব্য সংগঠনগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নারীদের উপস্থিতি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অন্যদিকে শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত পর্ষদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের কাউন্সিল ফর বোর্ড ডাইভার্সিটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৩-২৩ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬০ প্রতিষ্ঠানের ওপর গবেষণা করে সংস্থাটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকেরও বেশি এরই মধ্যে পর্ষদে ২৫-৩০ শতাংশ নারী পরিচালক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে কিংবা ছাড়িয়ে গেছে। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জের (এসজিএক্স) তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানে নারী পরিচালকের সংখ্যা ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ তিন গুণ বেড়ে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৩ সালে এ হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বোর্ডে ২০১৮ সাল থেকে ১০ শতাংশীয় পয়েন্টের কাছাকাছি হারে নারী পরিচালকদের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৩ নাগাদ এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের চ্যারিটি আইনে গঠিত শীর্ষ ১০০ দাতব্য সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদে নারী পরিচালকদের সংখ্যা গত বছর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২২ সালে সংগঠনগুলোয় নারী পরিচালক ছিল ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা বেড়ে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসজিএক্স তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ নারী পরিচালক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এর আগে ২০২২ সালে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৯। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোয় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ শতাংশ। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৬৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টি ২০২৩ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩০টি। অন্যদিকে ১০০টি শীর্ষ দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টি এ লক্ষ্যমাত্রা ২০২২ সালের মধ্যে পূরণ করেছিল। গত বছর এ সংখ্যা ৫৬-তে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিঙ্গাপুরে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বৈচিত্র্য আনতে সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও অনুশীলনসংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন আইনে পর্ষদের স্বতন্ত্র পরিচালকদের সর্বোচ্চ মেয়াদ নয় বছর করা হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর জেন্ডার বৈচিত্র্যবিষয়ক নীতিমালা উন্মুক্ত করার করার নির্দেশ দিয়েছে এসজিএক্স। নারী পরিচালক অন্তর্ভুক্তিতে দেশটির সরকারও যথেষ্ট উৎসাহ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে এসজিএক্স তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানে প্রথমবার নিয়োগ পাওয়া নারী ও পুরুষ পরিচালকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮-২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩১০ জন পরিচালক নতুন নিয়োগ পান, যা এ সময়ে হওয়া মোট নিয়োগের ৫১ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ পরিমাণ ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোয় বোর্ড চেয়ার এবং কমিটি চেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আরো বেশি নারী স্থান পেয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সব পরিচালকই পুরুষ এমন পর্ষদের সংখ্যা ক্রমাগত কমে এসেছে। এসজিএক্স তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরুষসর্বস্ব বোর্ড আছে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠান ৩৮ শতাংশ। দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ সংখ্যা ৫ শতাংশের নিচে।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের সামাজিক ও পরিবার উন্নয়নমন্ত্রী মাসাগোস জুলকিফলি বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্ষদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি জেন্ডার ডাইভার্স বোর্ড থাকার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। এটা শুধু সুশাসন নয়, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডারভেদে সমান সুযোগ সৃষ্টির অন্যতম নিয়ামক। কেননা আগামী দিনে জটিল সব সমস্যা সমাধান করতে বৈচিত্র্যপূর্ণ মেধার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’










