সৌদি আরবের প্রাইভেট জেট শিল্পে বড় অংকের বিদেশী বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে। এ খাতের বিকাশে বিস্তৃত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এতে ৩৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
মূলত ধনী ও করপোরেট পর্যটক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী ও মালিকদের আকর্ষণ করতে চাইছে সৌদি আরব। সম্প্রতি সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জেনারেল ম্যানেজার ইমতিয়াজ মানজারি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিজনেস জেট নির্মাতা, ফিক্সড-বেস অপারেটর, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যাটারিং পরিষেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে।
ইমতিয়াজ মানজারি গত সপ্তাহে রিয়াদে ফিউচার এভিয়েশন ফোরামের বক্তব্য রাখেন, যেখানে জিএসিএ জেনারেল এভিয়েশন শিল্পসম্পর্কিত বেশ কয়েকটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরবের উদীয়মান প্রাইভেট জেট শিল্প খাতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাপী কোম্পানির জোরালো চাহিদা রয়েছে।’
জিএসিএ চলতি সপ্তাহে তার জেনারেল এভিয়েশন রোডম্যাপ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা শিল্পের জন্য তার বিস্তারিত লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেছে। যার মধ্যে রয়েছে এ খাতের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে অবদান ২০৮ কোটি ডলারে উন্নীত করা। এর পাশাপাশি প্রায় ৩৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করা।
অবকাঠামো পরিকল্পনায় ছয়টি প্রাইভেট জেট এয়ারপোর্ট ও কমার্শিয়াল এয়ারপোর্টগুলোয় নয়টি ডেডিকেটেড টার্মিনাল সংযোগ উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে যেখানে সৌদি আরবে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র ৫টি বিজনেস জেট রয়েছে। তবে পূর্বাভাস বলছে এয়ারপোর্টের সক্ষমতা বাড়ার ফলে ভবিষ্যতে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ২৪টি বিজনেস জেট থাকবে।
বর্তমানে সৌদি আরবের মালিকানাধীন বেশির ভাগ কমার্শিয়াল জেট সৌদি আরবের বাইরে অন্যান্য দেশে রাখা হয়। সৌদি মালিকানাধীন ৯০ শতাংশ বিজনেস জেট বিদেশের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরেই রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সৌদি আরব চায় কমার্শিয়াল জেট কোম্পানি ও মালিকরা দেশের ভেতর থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করুক। অনেক সৌদি জেট মালিক দেশটির বাইরে উড়োজাহাজ পার্ক করেন, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অন্যত্র চলে যায়। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য জিএসিএ কর্তৃপক্ষ নীতিমালা সুবিন্যস্ত করেছে, প্রতিযোগিতামূলক ফি নিচ্ছে, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শতভাগ বিদেশী মালিকানার অনুমতিও দিচ্ছে।










