অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পাঁচ গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানির ওপর থেকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে চীন। বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির সর্বশেষ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স। খবরটি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, বেইজিং আটটি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়েছে। তবে দুটি প্রতিষ্ঠান এখনো নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
কভিড-১৯-এর উৎস সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানোর পর অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা, কাঠ ও ওয়াইনসহ বেশকিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় চীন। ২০২০-২২ সালের মধ্যে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। মাংসের ক্ষেত্রে লেবেলিং জটিলতা, দূষণ ও কর্মীদের কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখায় চীন।
অবশ্য মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। তাই অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে মাংস অব্যাহত ছিল।
এ বিষয়ে কৃষিবিষয়ক বিশ্লেষক ম্যাট ডালগ্লিশ বলেন, ‘গরুর মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিশেষ বিশেষ কসাইখানার জন্য কঠিন পরিস্থিতি ডেকে আনে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অপসারণের ফলে চীনে অস্ট্রেলিয়ার মাংসের চালানকে উৎসাহিত করা উচিত। এরই মধ্যে ২০২০ সালের তুলনায় রফতানি সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রতিযোগী যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর সংখ্যা কমে গেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি সক্ষমতা কমেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চীন এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন ম্যাট ডালগ্লিশ।
চীন গত বছর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রফতানি বাজার ছিল। ক্যানবেরার সংশ্লিষ্ট সংস্থার দেয়া তথ্যানুযায়ী, চীনে ২০২৩ সালে ২ লাখ ৪০ হাজার টন গরুর মাংস রফতানি করে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে।
দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দেশটির পণ্যের ওপর আরোপিত বেশির ভাগ বাধা তুলে নিয়েছে বেইজিং। তবে অস্ট্রেলিয়ান গলদা চিংড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।










