প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন খুচরা পণ্য বিক্রেতা চেইন টার্গেট। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ আইটেমের মূল্য কমিয়ে ফেলেছে, এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে লন্ড্রি আইটেম থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য। মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসায় এ ছাড়ের ঘোষণা বলে মন্তব্য করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর সিএনএন।

খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন মূল্য ২০ মে থেকে কার্যকর হয়েছে। আসন্ন গ্রীষ্মের মধ্যে আরো অন্তত পাঁচ হাজার পণ্যে বড় ধরনের মূল্যছাড় কার্যকর হবে।

টার্গেটের মূল্য হ্রাস উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতির মধ্যেও যেন ক্রেতারা তাদের অর্থ সাশ্রয় করতে পারে। এক্ষেত্রে গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং দৈনন্দিন আইটেম যেমন দুধ, তাজা ফল, ডায়াপার এমনকি পোষা প্রাণীর খাবারের ক্ষেত্রেও যেন বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় করা যায়।

টার্গেটের এ উদ্যোগ ক্লোরক্স ও প্রাইম এনার্জি ড্রিংকসের মতো ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে প্রভাবিত করেছে। এক্ষেত্রে টার্গেট কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছে। যেমন ক্লোরক্স ওয়াইপের ৭৫ কাউন্টের ক্যানিস্টার ৫ ডলার ৭৯ থেকে ৪ ডলার ৯৯ সেন্ট এবং গুড অ্যান্ড গ্যাদার ব্র্যান্ডের এক পাউন্ড আনসল্টেড মাখনের দাম ৩ ডলার ৯৯ থেকে ৩ ডলার ৭৯ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে মূল্যের বিষয়টি অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে প্রয়োগ হবে।

আইকিয়া ও অ্যালডির মতো অন্যান্য প্রধান রিটেইল কোম্পানিও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় পণ্যের দাম কমিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে ও খরচে প্ররোচিত করতে মূল্য কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে অধিকাংশ ভোক্তা তাদের খরচ কমিয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (খুচরা ও ভোক্তা) সারাহ ওয়াইথ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‌তিন বছর আগের তুলনায় খরচ ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে আয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্রেতারা এখন এক বছরের জন্য পিছিয়ে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, পণ্যের উচ্চ মূল্যের বিষয়টি খুচরা বিক্রি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। গত মার্চের তুলনায় এপ্রিলে খুচরা বিক্রির পরিমাণ অপরিবর্তিত ছিল।

এদিকে ফ্যাক্টসেটের তথ্যমতে, অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস থেকে এপ্রিলে দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে।

টার্গেট সম্প্রতি বিক্রিতে পতন দেখেছে। ২০১৬ সালের পর গত বছর প্রথমবারের মতো কোম্পানিটির বিক্রি কমে যায়। এছাড়া ২০২৪ সালের পূর্বাভাসে মন্থর প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ফলে এ উদ্যোগ বিক্রি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা তাদের।