মার্কিন কোম্পানিতে নিম্নস্তরের কর্মীদের তুলনায় শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রায় ২০০ গুণ বেশি আয় করে থাকেন। সম্প্রতি এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিষয়টি জানা গেছে। বার্তা সংস্থা এপির জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জরিপ সংস্থা ইকুইলার ইনকরপোরেটেড।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সিইওদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতন গত বছর প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে, এর পরিমাণ ১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। একই সময়ে কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু শীর্ষ নির্বাহীদের ক্ষেত্রে আয়ের একটি অংশ মাত্র এ বেতন। এর সঙ্গে পারফরম্যান্স ভিত্তিতে তারা স্টক অংশীদারত্ব ও বোনাস পেয়ে থাকেন।

শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত ৫০০ বৃহত্তম কোম্পানির কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে। জরিপে অংশ নেয়া অর্ধেক কোম্পানিতে গত বছর সিইওরা যা আয় করেছেন তার সমান আয় করতে একজন কর্মীর প্রায় ২০০ বছর সময় লেগে যাবে। মূলত শক্তিশালী মুনাফা ও শেয়ারের দাম বাড়ায় সিইওরা পুরস্কৃত হয়েছেন।

নিউইয়র্কভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা পার্টনার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কেলি মালাফিস বলেন, ‘মহামারী-পরবর্তী বাজারে কোম্পানিগুলো পুরস্কার দিয়ে সিইওদের ধরে রাখতে চায়। ফলে তাদের বেতন বেড়েছে।’

প্রোগ্রেসিভ ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের গ্লোবাল ইকোনমি প্রজেক্টের পরিচালক সারাহ অ্যান্ডারসন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভব করছে। কারণ তাদের আয় যথেষ্ট পরিমাণে বাড়েনি। প্রধান নির্বাহী ও কর্মীদের বেতনের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান অর্থনৈতিক অসন্তুষ্টিতে অবদান রাখছে।’

অনেক কোম্পানি প্রধান নির্বাহীদের কোম্পানির শেয়ারের মাধ্যমে পুরস্কৃত করছে। এ ধরনের পুরস্কার গত বছর প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে বোনাস বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষণায় ৩৪১ জন প্রধান নির্বাহীর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে, যারা কমপক্ষে টানা দুই অর্থবছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রডকম ইনকরপোরেটেডের সিইও হক ট্যান প্রায় ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার বেতন প্যাকেজ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তার আয়ের মধ্যে কোম্পানির ১৬ কোটি ৫ লাখ ডলারের স্টক অ্যাওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও পাঁচ বছর সিইও পদে থাকলে ২০২৫ অর্থবছর থেকে তিনি ১০ লাখ শেয়ার পাবেন।

অন্যান্য শীর্ষ বেতনভোগী সিইওদের মধ্যে রয়েছেন ফেয়ার আইজ্যাক করপোরেশনের উইলিয়াম ল্যানসিং, তার বেতন ৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। অ্যাপল ইনকরপোরেশনের টিম কুকের বেতন প্যাকেজ ৬ কোটি ৩২ লাখ ডলার, প্রোলোজিস ইনকরপোরেশনের হামিদ মোঘাদামের ৫ কোটি ৯ লাখ ডলার ও নেটফ্লিক্সের সহপ্রধান নির্বাহী টেড সারানডোসের বেতন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

কভিড-১৯ মহামারীর পর মার্কিন কর্মীদের বেতন নিয়মিতভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে বেসরকারি খাতে এ হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে সিইও ও কর্মীদের বেতনের মধ্যে আয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বাড়ছে। কর্মীদের তুলনায় জরিপে অন্তর্ভুক্ত অর্ধেক সিইও কমপক্ষে ১৯৬ গুণ বেশি আয় করেছেন, যা আগের বছর ছিল ১৮৫ গুণ। খুচরা পণ্য বিক্রির মতো খাতে ব্যবধান আরো বেশি। যেমন রস স্টোরের সিইও বারবারা রেন্টলারের ১ কোটি ৮১ লাখ ডলার বেতন একজন কর্মীর আয় করতে ২ হাজার ১০০ বছর সময় লেগে যাবে।