সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা শুল্কস্টেশনকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এত দিন ঘোষণার মধ্যেই আটকে ছিল স্থলবন্দর প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ। শুল্কস্টেশনের অবকাঠামো, লোকবল নিয়েই চলছিল শেওলার কার্যক্রম। সেবাও ছিল আগের মতোই। অবশেষে শেওলাকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপ দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শেওলা স্থলবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এ আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। অতীতের সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ভাবনা এবং প্রকল্পে লুটপাটের কারণে আমরা ক্রমে পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। এখন প্রতিটি প্রকল্প স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশের মানুষের চাওয়া পূরণ করতে পেরেছি। মানুষ কী চায় তা জানার জন্য আমরা ঘরে ঘরে যাচ্ছি। গ্রামীণ উন্নয়নে প্রতিনিয়ত নতুন প্রকল্প গ্রহণ করছি। গতি পেয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কেএম তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার রাশেদুল হাসান। আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী মাহবুব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) সুদীপ্ত রায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
শেওলা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেওলা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হচ্ছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১-এর আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী মাহবুব বণিক বার্তাকে বলেন, প্রায় ২৫ একর জায়গার ওপর শেওলা স্থলবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পূর্বের ১৫ একরের বাইরে নতুন করে নয় একর জমি অধিগ্রহণসহ গোডাউন, ইয়ার্ড, নিরাপত্তা প্রাচীর, ওয়েব্রিজ স্কেল, ট্রাক পার্কিং, ডমেস্টিক ব্যারাক নির্মাণ করা হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে এ শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় স্থলবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরাও। স্থানীয় আমদানিকারক আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, শেওলা শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানি তুলনামূলক সহজ। কারণ এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভালো। ফলে বাড়তি পরিবহন ব্যয় ও লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, শেওলা দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ অপেক্ষাকৃত সহজতর হওয়ায় এখানে স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু হলে আমদানি-রফতানি আরো বাড়বে। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আরো গতিশীল ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হবে।
যদিও করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে শেওলা শুল্কস্টেশন। এ পথে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। মাঝে অল্প পরিমাণ ফল আমদানি হয়েছে বলে জানান শুল্কস্টেশন কর্মকর্তারা।










