আয়োজনের ঝামেলা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ফাস্ট ফুড খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় সেই জনপ্রিয়তা অনেকটা ম্রীয়মান। এর প্রভাবে স্ট্রিট ফুড থেকে নামি চেইনে কমেছে ক্রেতা। উল্টোদিকে ভোক্তা রুচির পরিবর্তনে দেশটির বৃহত্তম মুদি চেইন শপ ওয়ালমার্ট বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা করছে। খবর সিএনবিসি।
ফাস্ট ফুড বাজারের স্থবিরতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি ওয়ালমার্টের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ডেভিড রেইনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে এমন দোকানে বিক্রি বেড়েছে। আগে যারা কুইক সার্ভিসের খাবার কিনত এখন তাদের অনেকেই সস্তায় খাবার কিনতে চায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাড়ির চেয়ে বাইরে খাওয়া এখন প্রায় ৪ দশমিক ৩ গুণ বেশি ব্যয়বহুল। এটি আমাদের ব্যবসাকে বেশ উপকৃত করছে। যখন গ্রাহক দেখে একই দাম কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো সস্তা তখন তারা গ্রোসারি শপ থেকেই কিনছে। কারণ মেনু আইটেম ও বাড়িতে রান্না করা আইটেমের মধ্যে দামের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছেই।’
বিক্রি বাড়ার ফলে ১৬ মে ওয়ালমার্টের শেয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চে উঠেছে। ওয়ালমার্ট আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, চলতি বছর বিক্রি ২০২৩ সালের তুলনায় বেশি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির লেনদেন ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকস, ইয়াম ব্র্যান্ডসহ রেস্তোরাঁ জায়ান্টগুলোর আয়ের নিরিখে বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
খাতসংশ্লিষ্ট রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সলিউশনসের তথ্যমতে, প্রথম প্রান্তিকে ফাস্ট ফুড ও ফাস্ট ক্যাজুয়াল রেস্টুরেন্টসহ সীমিত পরিষেবা চেইনগুলোর ট্রাফিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড ব্র্যান্ড ম্যাকডোনাল্ডস দামের কারণে সর্বশেষ প্রান্তিকে বিরূপ গ্রাহক প্রতিক্রিয়া দেখেছে। বার্গারের জন্য বিখ্যাত কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের একই স্টোরে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধির হতাশাজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সিইও ক্রিস কেম্পজিনস্কি বলেছেন, ‘ভোক্তারা বিশেষ করে যারা কম আয় করেন তারা সস্তা খাবার খুঁজছেন। ফলে আমরা আগামী ২৫ জুন থেকে প্রায় এক মাসের জন্য মাত্র ৫ ডলারে খাবার অফার করব।’
মার্কিন শ্রম বিভাগের মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কফি শপ বা রেস্তোরাঁর খাবারের সঙ্গে বাড়িতে রান্না করা খাবারের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।










