বিলাসবহুল ও সৃষ্টিশীল পণ্যের ক্ষেত্রে কেনাকাটার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন অতিধনীরা। শিল্পকর্ম, ম্যানসন ও ক্ল্যাসিক গাড়ির মতো সম্পত্তি কিনতে প্রচলিত বাজার এড়িয়ে চলছেন তারা। ফলে অফ-মার্কেটে ‘সুপার প্রাইভেট ডিল’ বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের একান্ত পরিসরে কেনাকাটার পরিমাণ বেড়েছে। খবর সিএনবিসি।

নিলাম সংস্থা ও বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা জানিয়েছে, বিত্তশালীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নজর এড়াতে বেচাকেনার এমন পন্থা বেছে নিচ্ছেন। উল্টোদিকে প্রকাশ্য নিলামের পরিমাণ কমছে। 

২০২৩ সালে সদবি’স, ক্রিস্টি ও ফিলিপসের সম্মিলিত পাবলিক নিলামে বিক্রি কমেছে ১৯ শতাংশ। তবে প্রাইভেট ডিলে বিক্রি সদবির ৪ শতাংশ ও ক্রিস্টিসের ৫ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানি দুটির মোট ব্যক্তিগতভাবে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৪০ কোটি ডলার।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিলাম সংস্থা ক্রিস্টি বিলিয়নেয়ার কেন গ্রিফিনের কাছে মার্ক রথকোর একটি চিত্রকর্ম ১০ কোটি ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি করেছে। এটিও প্রাইভেট ডিলের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে ক্ল্যাসিক গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রাইভেট ডিলের মাধ্যমে বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল ও বিরল মডেলের ক্ষেত্রে এটি বেশি হচ্ছে। সদবি’স ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেরারি ও পোরশের মতো গাড়ি পাবলিক নিলামে বিক্রি করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির নবগঠিত প্রাইভেট সেলস ডিভিশন গত চার বছরে চার গুণ বিক্রয় বৃদ্ধি দেখেছে।

সদবি’স প্রাইভেট সেলসের গ্লোবাল হেড শেলবি মায়ার্স বলেন, ‘প্রাইভেট ডিল থেকে আমাদের সাম্প্রতিক আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসছে। আমরা অবশ্যই এমন একটি প্রবণতা দেখেছি যেখানে ধনী ক্রেতারা প্রাইভেট ডিলের মাধ্যমেই লেনদেন করতে চান। কারণ তাদের কাছে গোপনীয়তা মুখ্য। সবাইকে না জানিয়েও তারা এভাবে বিলাসী ও শৌখিন সামগ্রীগুলো কিনতে পারছেন।’

প্রাইভেট ডিলের মাধ্যমে বিক্রি বাড়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমগুলো সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর দাম কমাসহ নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। যখন আর্ট বা ক্ল্যাসিক গাড়ি নিলামে তোলা হয় তখন তার সব তথ্য সর্বজনীন হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার নাম-পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে যায়। তাই ক্রেতা-বিক্রেতারা ঝুঁকি নিতে চায় না।

মায়ার্স জানান, বিরল গাড়ি সংগ্রহকারীদের সংখ্যা আগে কম ছিল। তবে এখন বিভিন্ন গাড়ির ইভেন্টে বিরল গাড়ি সংগ্রহকারীরা তাদের গাড়ির দাম জানাতে আগ্রহী নন। কারণ সংগ্রহকারীরা কোনো গাড়ি ইভেন্টে গাড়ি প্রদর্শন করলে তখন সে গাড়ির সব তথ্য খুব দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ম্যানহাটন, ম্যালিবু ও পাম বিচের মতো এলাকার বড় আবাসন চুক্তিগুলো প্রাইভেট ডিল বা অফ-মার্কেটের মাধ্যমে হচ্ছে। এতে প্রপার্টিগুলো পাবলিক তালিকাভুক্ত থাকে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু রিয়েল এস্টেট এজেন্টের মাধ্যমে গোপনে ক্রয়-বিক্রয় হয়।

ম্যানহাটনের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি টাউনহাউজ চলতি বছর অফ-মার্কেট চুক্তিতে ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত বিক্রি হওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল টাউনহাউজ ছিল। এছাড়া পাম বিচে ১৩ হাজার বর্গফুটের একটি ম্যানশন বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ডলারে। 

মূলত ১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অফ-মার্কেটে ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। হলিউডের সেলিব্রিটিসহ ধনী ক্রেতা-বিক্রেতারাও গোপনীয়তার জন্য অফ-মার্কেট ব্যবহার করেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্ট আর্নি কারসওয়েল বলেন, ‘যেকোনো সাধারণ মাল্টি-মিলিয়নেয়ার বা বিলিয়নেয়াররা মিডিয়ার হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় করতে পছন্দ করেন।’