চলতি মাসের শুরুতে বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ওয়ারেন বাফেটের নেতৃত্বাধীন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। মার্কিন বহুজাতিক এ কনগ্লোমারেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাদের মালিকানাধীন বেশির ভাগ ব্যবসাই ভালো করেছে। খবর সিএনএন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল বীমা সংস্থাগুলো গত প্রান্তিকে শক্তিশালী ফল দেখিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বীমা গ্রাহকদের কাছে ২৬০ কোটি ডলার আন্ডাররাইটিং মুনাফার কথা উল্লেখ করে বার্কশায়ার। এর আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার। ওই সময়ই আলোচনায় আসে নতুন কোন কোন বীমা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন ওয়ারেন বাফেট?

অবশেষে সে রহস্য খোলাসা করল বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। তারা বীমা প্রতিষ্ঠান চাবেতে বিনিয়োগের কথা প্রকাশ্যে আনল। ধনকুবের ওয়ারেট বাফেটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি গত বছর এ বিনিয়োগ করলেও এতদিন তা গোপনে রাখে।

বার্কশায়ার জানিয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে তারা চাবের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার কিনেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এ বিনিয়োগের খবর জনসম্মুখে আনতে চায়নি। যে কারণে আর্থিক প্রতিবেদনে এ খবর জনসম্মুখে না আনার অনুরোধ করে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে।

বীমা কোম্পানি চাব ৫৪টি দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে মার্চে প্রতিষ্ঠানটি খবরের শিরোনাম হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ই. জিন ক্যারলের মানহানির মামলায় প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের আপিল বন্ড লিখেছিল তারা।

বার্কশায়ারের সিইও ওয়ারেন বাফেট তার বিনিয়োগ দক্ষতার জন্য বিখ্যাত। যার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাকে অনুসরণ করে। গত বুধবার এ খবর সামনে আসার পর ‘চাব’-এর শেয়ারদর ৮ শতাংশ বেশি বেড়েছে।

চাবে এ বিনিয়োগ মূলত কয়েক মাস ধরে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বিনিয়োগ কৌশলকে সামনে এনেছে। যেখানে অ্যালি ফাইন্যান্সিয়াল, আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাপণ্যের ওপর তাদের বিনিয়োগ দ্বিগুণ হারে কমিয়ে এনেছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জানায়, তারা বছরের প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের এক কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। যদিও এর পরই অ্যাপলেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ রয়েছে বার্কশায়ারের।

এছাড়া বার্কশায়ার ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রিন্টার কোম্পানি এইচপির আট কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। এতে কোম্পানিটিতে বার্কশায়ারের অংশীদারত্ব ৭৮ শতাংশ কমেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বার্কশায়ার মুনাফা করেছে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলার, যা ক্লাস ‘এ’ শেয়ারপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮২৫ ডলার। তবে এবারের মুনাফা গত বছরের একই প্রান্তিকের ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ওই সময় শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল ২৪ হাজার ৩৭৭ ডলার। এ হিসাবে মুনাফা কমার হার ৬৪ শতাংশ।