২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়াসহ শীর্ষ ১০টি বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে নয়টির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির রেকর্ড করেছে ভারত। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, আমদানি ও রফতানি দুই ক্ষেত্রেই পার্থক্য দেখা গেছে। এ ঘাটতি দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদন অনুসারে, চীন, রাশিয়া, কোরিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে আরো বেড়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরাকের সঙ্গে ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের যথাক্রমে ৮ হাজার ৩২০ কোটি, ৪ হাজার ৩ কোটি, ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ও ৮৩৮ কোটি ডলারের বিপরীতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ হাজার ৫০০ কোটি, রাশিয়ায় ৫ হাজার ৭২০ কোটি, কোরিয়ায় ১ হাজার ৪৭১ কোটি ও হংকংয়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলার হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের স্থান দখল করে নিয়েছে চীন। ২০২৩-২৪ বছরে চীনের সঙ্গে দ্বিমুখী লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার। একই সময়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। এর আগের দুই অর্থবছরে নয়াদিল্লির শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল ওয়াশিংটন।

চারটি শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে ভারতের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। দেশগুলো হলো সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। এ তালিকায় আরো রয়েছে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ।

গত অর্থবছরে ভারতের মোট বাণিজ্য ঘাটতি ২৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারে সংকুচিত হয়েছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৬ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি একটি দেশ উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর জন্য কাঁচামাল বা মধ্যস্থতাকারী পণ্য আমদানি করে, তবে বাণিজ্য ঘাটতি সবসময় নেতিবাচক নয় । তবে এটি স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এদিকে অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) বলছে, যদি না একটি দেশে অন্য দেশের সরবরাহের ওপর গুরুতরভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি বড় কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

জিটিআরআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় ​​শ্রীবাস্তব বলেন, ‘কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী আমদানি ছাড়াও স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি হতে পারে। এ সময় আমদানির জন্য আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। এ অবমূল্যায়ন আমদানিকে আরো ব্যয়বহুল করে তোলে ও বাণিজ্য ঘাটতি খারাপ পরিস্থিতির দিকে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ক্রমবর্ধমান ঘাটতি পূরণে বিদেশীদের কাছ থেকে আরো বেশি ঋণ নিতে হতে পারে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে পারে। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পায়।’