ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টায় পশ্চিমাদের অন্যতম হাতিয়ার হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। একাধিকবার ধাপে ধাপে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো। তবে পাল্টা পদক্ষেপ নিতেও কসুর করছেন না মস্কো, তাদের সর্বশেষ লক্ষ্য জেপি মরগান চেজ। রাশিয়ায় থাকা মার্কিন বৃহত্তম ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। খবর আরটি।

স্থানীয় একটি আদালত গত সপ্তাহে মার্কিন ব্যাংকিং জায়ান্ট জেপি মরগান চেজের মালিকানাধীন সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ভিটিবির আইনি এক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ রায় এসেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে বিদেশে থাকা সম্পদ ব্যবহার করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ভিটিবি। জব্দ হওয়া সে ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পুনরুদ্ধারের জন্য মামলাটি করা হয়েছিল।

সেন্ট পিটার্সবার্গ ও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আরবিট্রেশন কোর্টে ১৭ এপ্রিল জেপি মরগান ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করে ভিটিবি। ওই মামলা বিবেচনায় নিয়ে রুশ অ্যাকাউন্টে থাকা মার্কিন ব্যাংকটির অর্থ এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে রায় দেন আদালত। জব্দের আওতায় রুশ ব্যাংকে থাকা জেপি মরগান অংশীদারত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিটিবির দাবীকৃত ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার যুক্তরাষ্ট্রে জেপি মরগানের একটি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন হামলার পর ওয়াশিংটন এ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ অবরুদ্ধ করে দেয়।

আদালতে একটি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের জন্যও আবেদন করেছিল ভিটিবি। কারণ এর আগে জেপি মরগান জানিয়েছিল, তারা রাশিয়া থেকে সম্পদ প্রত্যাহার করে নেবে। এ আশঙ্কাও আদালতের নথিতে উল্লেখ করে রাশিয়ার ব্যাংকটি।

অবশ্য এর আগে ভিটিবির বিরুদ্ধে আদালতে যায় জেপি মরগান। নিউইয়র্কের একটি আদালতের মাধ্যমে রুশ ব্যাংককে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়, মূলত মার্কিন আইন ভিটিবির ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এখন সে নিষেধাজ্ঞা মানতে গিয়ে অর্ধ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শিকার হচ্ছে জেপি মরগান।

ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকটির একটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের রায় ভিটিবির পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা এর আগে রাশিয়ার আদালত অন্তত ছয়টি স্থানীয় ব্যাংককে একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। জেপি মরগানের মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের দুই বছর সময়ে জো বাইডেন প্রশাসন মস্কোর সামরিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার জন্য অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য বেঁধে দেয়া ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তা সত্ত্বেও জ্বালানি তেল বাণিজ্যে শীর্ষে মস্কো। দেশটির অর্থনীতিও যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা দেয়াসহ একাধিক উদ্যোগ নেয় ওয়াশিংটন। ওই বিলে যুক্তরাষ্ট্রে রুশ সম্পদ শনাক্ত ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন জো বাইডেন। নতুন এ বিল পাসের পর পরই জেপি মরগানের বিরুদ্ধে রুশ আদালত রায় দিয়েছেন।

জেপি মরগানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিটিবির মামলার কারণে তারা ‘নিশ্চিত ও অপূরণীয় ক্ষতির’ সম্মুখীন হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি আর্থিক প্রতিবেদনে জেপি মরগান চেজ জানায়, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পূর্বাভাসের চেয়ে আয় বেড়েছে। পূর্বাভাসে আয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি ডলার। তবে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের প্রথম তিন মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৬ শতাংশ, এর পরিমাণ ১ হাজার ৩৪২ কোটি ডলার।