সর্বশেষ অর্থবছরে ভারত থেকে সামুদ্রিক পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রধান রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্যের চাহিদায় মন্দা দেখা দিয়েছিল। এ সময় আগের অর্থবছরের তুলনায় রফতানি ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ৭৩৭ কোটি ডলার হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২২-২৩ সালে ৮০৯ কোটি ডলারের সামুদ্রিক পণ্য রফতানি করে ভারত। অবশ্য সর্বশেষ অর্থবছরে রফতানি কমলেও চলমান ২০২৪-২৫ অর্থবছর নিয়ে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক পণ্যের ক্রয়াদেশ বেড়েছে।

ভারতের প্রধান সামুদ্রিক পণ্য হলো হিমায়িত চিংড়ি। রফতানিকারকদের মতে, চাহিদায় মন্দা, প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও একুয়েডর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হিমায়িত চিংড়ির রফতানি বৃদ্ধি গত অর্থবছরে ভারতের রফতানিকে প্রভাবিত করেছে।

সামুদ্রিক পণ্য খাতে ভারতের নেতৃস্থানীয় কোম্পানি মেগা মোডা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগেশ গুপ্ত বলেন, ‘একুয়েডরের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে এ বাজারে ভারত ও একুয়েডরের হিমায়িত চিংড়ি প্রতিযোগিতা করবে। ২০২৪-২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’

সামুদ্রিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এ অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা আগামী দুই বছরে সমুদ্রজাত খাদ্যপণ্য রফতানি ১ লাখ কোটি রুপিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটির ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৩ হাজার ৯৬৯ কোটি রুপি বা ৮০৯ কোটি ডলার মূল্যের ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৬ টন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রফতানি করে। এটি পণ্যের চালান ও মূল্যের দিক থেকে দেশটির জন্য রেকর্ড।

২০২২-২৩ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ির প্রধান আমদানিকারক ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এ সময় চিংড়ি রফতানি করে ভারত ৪৩ হাজার ১৩৫ কোটি রুপি বা ৫ হাজার ৪৮১ কোটি ডলার আয় করে। পণ্যের ওজনের দিক থেকে মোট রফতানিতে এর অংশ ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ডলারে হিসাবে মোট আয়ে হিস্যা ছিল ৬৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ির সামগ্রিক রফতানি ছিল ৭ লাখ ১১ হাজার ৯৯ টন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬২ টন ও চীন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ টন আমদানি করে শীর্ষস্থানে ছিল।