তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের পর্ষদ সভা আজ বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ফার্স্ট ফাইন্যান্সের কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৪১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। সমাপ্ত হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির সুদ আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে আলোচ্য হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি আমানত ও ধারের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করেছে ৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯ কোটি ৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া কোম্পানিটির পরিচালন লোকসান আলোচ্য হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে হয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৬৬ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট দায় (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৮৬ পয়সায়।
২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এনবিএফআইটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৪ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৮ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়ায় ২৮ টাকা ৮৪ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৪ টাকা ৩২ পয়সায়।
২০২১ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ফার্স্ট ফাইন্যান্স। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে লোকসানের কারণে ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি তারা। একই কারণে ২০১৭, ২০১৬, ২০১৫ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ পাননি এনবিএফআইটির শেয়ারহোল্ডাররা।
ওয়াসো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের (ডব্লিউসিআরসিএল) প্রত্যয়ন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বশেষ সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল বি প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৪’। সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করা হয়।
২০০৩ সালে তালিকাভুক্ত ফার্স্ট ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬৩। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, ২১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল এনবিএফআইটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৩ টাকা ৮০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৩ টাকা ৬০ ও ৬ টাকা।










