চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টার্টআপগুলো তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে। এ সময় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে পাওয়া বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ২৪০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো এ পরিমাণ বিনিয়োগ পেয়েছে খাতটি। খবর রয়টার্স।

এসব তথ্য দিয়ে ডাটা বিশ্লেষক সংস্থা পিচবুক জানিয়েছে, বিনিয়োগ বাড়ার পেছনে দুটি ঘটনা প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। একটি হলো ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার হ্রাসের প্রত্যাশা বেড়েছিল, অন্যটি মার্কিন বিটকয়েন স্পট ইটিএফের আত্মপ্রকাশ বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আস্থা জুগিয়েছিল।

সংস্থাটি জানায়, এ সময় ক্রিপ্টো বাজারে ৫১৮টির বেশি চুক্তি হয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। যদিও একই সময় বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ প্রায় পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসে।

২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্রিপ্টো খাতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করে। ওই সময় ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পর ডিজিটাল অ্যাসেট স্টার্টআপগুলোয় অর্থায়ন কমতে থাকে। মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়া ক্রিপ্টোর বাজারে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি স্পট বিটকয়েন ইটিএফের মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন প্রাপ্তি এ ধরনের সম্পদের বৈধতা বাড়িয়েছে। ফলে মার্চে বিটকয়েনের বিনিময় হার রেকর্ড ৭৩ হাজার ৮০৩ ডলারে পৌঁছে। 

পিচবুক অনুসারে, ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির জন্য অবকাঠামো নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ দেয়া স্টার্টআপগুলো মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিনিয়োগ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে ছিল। 

সবচেয়ে বড় চুক্তিটি করেছে ডিসেন্ট্রালাইজড ক্লাউড প্লাটফর্ম টুগেদার এআই। সেলসফোর্স ভেঞ্চার্সের নেতৃত্বে কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ৬০ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। এতে কোম্পানির বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১১০ কোটি ডলার। 

এ বিষয়ে পিচবুকের বিশ্লেষক রবার্ট লি বলেন, ‘বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ সংগ্রহ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তবে অস্বাভাবিকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের চুক্তিগুলো শেষ পর্যায়ের চুক্তির তুলনায় বেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। এ প্রবণতা আগামী প্রান্তিকে বজায় থাকে কিনা সে দিকে এখন আমাদের নজর।’

বিনিয়োগ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাবলিকলি ট্রেড করা টোকেনগুলোর পুনরুদ্ধার ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্রিপ্টোর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত বাড়ার প্রবণতার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল বৃদ্ধি করবে।’

সর্বশেষ প্রান্তিকে খুব কম ক্রিপ্টো কোম্পানি বিক্রি হয়েছে বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ট্রেডে যোগ দিয়েছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করেন রবার্ট লি। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে আরো বেশি কোম্পানি একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। ক্রিপ্টোর বাজার বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল থাকলে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, স্টোরেজ প্রভাইডার ও টেক ডেভেলপার উদ্যোগগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ জোরদার হতে পারে।